মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
সাত বছর বয়সি মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর কুরআতুল কুরআন মাদ্রাসায় গিয়ে ওই অভিভাবক এক শিক্ষককে চড় মেরে আলোচিত হন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় ভুক্তভোগীর অভিভাবককে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন সেই অভিভাবকের আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মামলায় শুনানিতে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই সময়ের মধ্যে গাজীপুরে তাকে আত্মসমর্পণ করাব।
“এই মামলার মূল বিষয় ছিল থাপ্পড়ের পাশাপাশি ১৭ লাখ টাকা চুরির একটি অভিযোগ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে একটি মাদ্রাসায় নগদ ১৭ লাখ টাকা থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এটা যে মিথ্যা অভিযোগ, সে বিষয়ে একটি যুক্তিসংগত ধারণা তৈরি হয়। তারপরও আমরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিন চেয়েছিলাম। আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা গাজীপুরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
আদালতে এ দিন জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।
সাত বছর বয়সি মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর কুরআতুল কুরআন মাদ্রাসায় গিয়ে ওই অভিভাবক এক শিক্ষককে চড় মারেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচিত হন বডিবিল্ডার ওই অভিভাবক। পরে মুসলেম উদ্দিন নামে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তোর করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
একই ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর মাদ্রাসায় বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশ, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসার অফিসকক্ষ ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে ওই অভিভাবকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা হয়। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় গত ২৬ অক্টোবর আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন সেই অভিভাবক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আসামিরা বেআইনিভাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা অফিস কক্ষের টেবিলের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথার পেছনে বড় আকারের একটি স্ট্যাপলার দিয়ে আঘাত করেন ওই অভিভাবক। এতে ওই শিক্ষক রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিরা তাকে মারধর করেন।
হামলাকারীরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস কলিকেও ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারে। এ ছাড়া নারী শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শ্লীলতাহানি করেন।
মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই অভিভাবক অফিস কক্ষের ড্রয়ারে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান। যাওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে মারধর করেন এবং এই ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: চড় দেওয়া সেই অভিভাবকের আগাম জামিন আবেদন
যৌন হয়রানির মামলা: টঙ্গীর সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
