টঙ্গীতে মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: চড় দেওয়া সেই অভিভাবকের আগাম জামিন আবেদন
সাত বছর বয়সি সন্তানকে যৌন হয়রানির অভিযোগে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মেরে দেশজুড়ে আলোচিত হন বডিবিল্ডার ওই অভিভাবক।
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন চড় দিয়ে আলোচিত যৌন হয়রানির শিকার শিশুটির বাবা।
বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে সোমবার আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন ওই অভিবাবকের আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সোমবার তার আগাম জামিনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছি এবং কোর্টে মেনশন করেছি। এখনো কজলিস্টে আসে নাই। আজকে রাতে আমরা জানতে পারব, কালকে আসবে কি না।”
আগাম জামিনের প্রক্রিয়া নিয়ে বেল্লাল হোসাইন বলেন, “কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে তিনি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াও গ্রেপ্তার করতে পারে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা এড়ানো এবং পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পেতে অনেকে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
“হাই কোর্ট আগাম জামিন মঞ্জুর করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিতে পারেন। উচ্চ আদালত জামিন দিলে নিম্ন আদালতে জামিন বিবেচনার ক্ষেত্রেও তা একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিম্ন আদালত নিজস্ব বিচারিক বিবেচনা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেয়।”
সাত বছর বয়সি সন্তানকে যৌন হয়রানির অভিযোগে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মেরে দেশজুড়ে আলোচিত হন বডিবিল্ডার ওই অভিভাবক। নানা হুমকির কারণে সম্প্রতি তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছে এ বিষয়ে বেল্লাল হোসাইন বলেন, “আমার মক্কেল দেশের বাইরে আছেন, এটা আপনাদের মত আমিও শুনেছি। কিন্তু উনি আমাকে সে বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে রোববার তিনি সশরীরে কোর্টে এসে এফিডেভিট করে গেছেন।”
আগাম জামিনের শুনানিতে আবেদনকারীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হয় জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “তিনি দেশে আছেন কি না, এটা শুনানির সময় উনার উপস্থিতি-অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। তখন প্রকৃত ব্যাপারটা বোঝা যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন মন্তব্য বা হুমকির বিষয়ে এই আইনজীবীর ভাষ্য, “সুনির্দিষ্টভাবে লাইফ থ্রেটের কোনো বিষয় আমাকে জানানো হয়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নিউজগুলো বা বাজে মন্তব্য দেখা যাচ্ছে, তা থেকে এক ধরনের সাধারণ শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
টঙ্গী পশ্চিম থানায় হওয়া এই মামলার বাদী কুরআতুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ক্বারি আলমাস হোসেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় চড় মারা সেই অভিভাবককে। তার মেয়ে ওই মাদ্রাসারই প্লে-গ্রুপের ছাত্রী। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আসামিরা বেআইনিভাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা অফিস কক্ষের টেবিলের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথার পেছনে বড় আকারের একটি স্ট্যাপলার দিয়ে সজোরে আঘাত করেন ওই অভিভাবক। এতে ওই শিক্ষক রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিরা তাকে মারধর করেন।
হামলাকারীরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস কলিকেও ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এ ছাড়া নারী শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শ্লীলতাহানি করেন।
মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই অভিভাবক অফিস কক্ষের ড্রয়ারে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান। যাওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে মারধর করেন এবং এই ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওই অভিভাবকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
