২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যখনই তারা গাড়ি ভাঙচুর করবে, হত্যার প্রচেষ্টা করবে, অরাজকতা করবে, তখনই নিরাপত্তাবাহিনী তাদের যে অর্পিত দায়িত্ব, সেটা পালন করবে।”

ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইলে শনিবার বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থান। 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2023, 09:20 PM

Updated : 30 Jul 2023, 02:30 PM

ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিএনপি রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছিল বলে মন্তব্য করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শনিবার বিএনপির কর্মসূচি চলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে সন্ধ্যায় রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংঘাতে আহত হয়েছেন ডজনখানেক ব্যক্তি, পোড়ানো হয়েছে অন্তত তিনটি বাস, ভাংচুর হয়েছে আরও গাড়ি।

সংঘাতের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরই দায়ী করেছে পুলিশ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বলছে, বিএনপি আবার ‘অগ্নিসন্ত্রাসের’ পথে যাচ্ছে।

আহত পুলিশ সদস্যদের দেখার পর সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সেদিনের সেসব ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় তারা আবার সেই সব কর্মসূচি নিচ্ছে কিনা। আবারও সেই অগ্নিসন্ত্রাস করবে কিনা, মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারবে কিনা।”

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিএনপি অরাজকতা এবং জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য একের পর এক বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আজকে তারা ঢাকাকে সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মত একটা পরিকল্পনা করেছিল।

“যদিও বলেছিলেন তারা অবস্থান করবেন কিন্তু অবস্থান করেই তারা কিন্তু বসে থাকেননি। আমরা কয়েকজন বিএনপির সেন্ট্রাল নেতাদের দেখেছি তারা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে সমস্ত যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছেন।”

রাজনৈতিক দলগুলোর তদের কর্মসূচি পালন করায় কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যখনই তারা গাড়ি ভাঙচুর করবে, হত্যার প্রচেষ্টা করবে, অরজকতা করবে, তখনই নিরাপত্তা বহিনী তাদের যে অর্পিত দায়িত্ব সেটা পালন করবে।”

তিনি বলেন, “২০১৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া যে ডাক দিয়েছিলেন সেখানে মানুষ থেকে শুরু করে কোন জীবজন্তু সেই অগ্নিসন্ত্রাস থেকে বাদ যায়নি। গাড়িভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মানুষকে পুড়িয়ে মারার মত ঘটনা ঘটিয়েছে। সাধারণ মানুষ তখন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তখন থেকে তারা ধিকৃত হিসেবে চিহ্নিত।”

ফেইসবুকে ছড়ানো বিএনপিনেত্রী নিপুণ রায়ের একটি অডিও বার্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একজন নেতার কথা বলেছি। আমরা প্রমাণ পেয়েছি যেখানে ‘ভিডিও করে জ্বালাও, আগুন জ্বালাও। আগুনের শটটা পাঠাতে হবে, তোমরা জ্বালিয়ে আমাকে কনফার্ম করো’ বলেছেন।”

তার এই বার্তার সঙ্গে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও যুক্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আপ্যায়ন করা আর অবস্থান কর্মসূচি থেকে তুলে নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিএনপির আরেক নেতা আমান উল্লাহ আমানকে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মানবতার নেত্রী। তিনি যখন শুনেছেন আমানউল্লাহ আমান অসুস্থ হয়েছেন, গয়েশ্বর রায় সামান্য আঘাত পেয়ে পড়ে গেছেন। তখন তিনি দ্রুত তাদের ব্যাপারে যথাযোগ্য চিকিৎসা বা যা যা প্রয়োজন তা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।”