Published : 28 Jun 2026, 02:41 PM
জুলাই আন্দোলেনকেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আদালতে দাঁড়িয়ে মডেল মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস বলেন, তিনি কথা বললেই তার ‘জামিন আটকে যাচ্ছে’।
ঢাকার আশুলিয়া থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় এদিন মিষ্টি সুবাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম গত ২৪ জুন মিষ্টি সুবাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে এদিন।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
মিষ্টি সুবাসের পক্ষে অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি বলেন,"গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় মিষ্টি সুবাস। এরপর তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুই মামলায় জামিন পান তিনি। গত ২৩ জুন জামিননামা হাজতখানায় পাঠানো হয়। পরদিন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর দেখানোর আবেদন করা হয়। ঘটনার সাথে তিনি জড়িত না। তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করছি।"
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে মিষ্টি সুবাস বলেন, "আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনী। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানতে স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলাম। কথা বললেই জামিন আটকে যাচ্ছে। "
তিনি বলেন, “৫ অগাস্টের আগে দল/দেশ নিয়ে কিছু বলতাম না। ৫ অগাস্টের পর দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলছে। এরপর থেকে আমি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলছি। এটা যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি সেই অপরাধে অপরাধী হতে চাই।”
তার একজন শিশু সন্তান রয়েছে রয়েছে জানিয়ে এই মডেল শিশুটির বিষয়টি বিবেচনা করতে বলে আদালতকে।
পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে মিষ্টি সুবাস বলেন, "বারবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমি আর কথা বলব না। কথা বললে আমাকে বারবার আটকে দিচ্ছে। আমার কি অপরাধ আমি জানি না। কোন অপরাধে বারবার আমাকে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এটা আমার বড় অপরাধ। একের পর এক মামলা দিয়ে আটকে রেখেছে।"
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ৮ অগাস্ট বিকেলে সাড়ে ৩ টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শাকিল বাবু নামে এক যুবক। পরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে একই বছরের ২৫ অগাস্ট আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।