Published : 18 Aug 2026, 01:13 AM
শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।
মঙ্গলবার ২৫০ কিলোমিটার সড়কে এ ট্রাফিক ব্যবস্থা উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এতে প্রায় দেড় হাজার ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সড়কে নজরদারির পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানাও করা যাবে।
হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশের ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণির হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যে অংশে এআই ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, তা হাইওয়ে পুলিশের দুটি অঞ্চলে পড়েছে। একটি গাজীপুর অঞ্চল; আরেকটি কুমিল্লা অঞ্চল।
চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার মিলে কুমিল্লা অঞ্চল। ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ আছে আরেক অঞ্চলে।
সে হিসাবে হাইওয়ে পুলিশের ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত গাজীপুর রিজিয়ন আর দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কুমিল্লা রিজিয়ন পড়েছে।
গাজীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতি মাসে ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত সড়কে দুর্ঘটনায় ৬ থেকে ৭ জন মারা যান। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে জরিমানা পদ্ধতি চালু হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।
“মূলত অতিরিক্ত গতির কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এই এআই ক্যামেরার মাধ্যমে একটি গাড়িকে একাধিক জরিমানার সুযোগ থাকবে।”
কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান তাৎক্ষণিকভাবে দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশে দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য দিতে পারেননি। তবে তার অঞ্চলে ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত ৮৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা মনে করেন, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। জরিমানা করা গেলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার সড়কে ৪৯০টি পয়েন্টে ১ হাজার ৪৭০টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪০টি ক্যামেরা সচল আছে। এই সচল ক্যামেরার মাধ্যমে জরিমানা পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, এআই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করে ডিজিটাল মামলা তৈরি করে, যা সরাসরি গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে ক্ষুদে বার্তা বা এসএমএসের মাধ্যমে পৌঁছে।
মূলত অতিরিক্ত গতি, ভুল দিকে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা করা হবে।
এসব ক্যামেরা গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নেওয়া হয় বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম।
“এই সময় আমরা এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ম্যানুয়ালি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিআরটিএর সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হওয়াসহ বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়েছি।”