Published : 06 May 2026, 12:19 PM
বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি করার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
তিনি বলেছেন, "এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমাদের কমিটি গঠিত হয়েছে। যত ধরনের ফেইক বেনিফিশিয়ারি লিস্ট ছিল, এই লিস্টগুলোকে রিভিজিট করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
বুধবার জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিন প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাভোগীদের যে তালিকা রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রক্সিমিটি টেস্টের মাধ্যমে আমরা বেনিফিশিয়ারি সিলেক্ট করছি। যাদের চাহিদা আছে, যারা পাওয়ার যোগ্য, দল-মত সকল কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সেই যোগ্য মানুষের কাছে যেন তাদের বেনিফিটটা পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিতকরণের জন্য ইতোমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। "
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, "আমরা সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছেই পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
"প্রান্তিক লেভেল এবং ওপরের লেভেলের যদি সমন্বয়টা ভালোমতো হয়, তাহলে অবশ্যই এটা কার্যকর হবে।"
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নতুন করে সাজিয়েছে বিএনপি সরকার।
আগে যেসব কর্মসূচি ছিল তাও চালু আছে। তবে নারী প্রধান পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ায় তাদের অন্য যেসব সুবিধা চালু ছিল, তা বন্ধের কথা বলেছিল সরকার।
এসব তালিকা পুনর্মূল্যায়ন হলে আদতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়বে কিনা–এমন প্রশ্ন রাখা হয় প্রতিমন্ত্রীর সামনে।
ফারজানা শারমীন বলেন, "বাড়ছে তো। ফ্যামিলি কার্ডের মত এত বড় একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম যেটা দেশে এবং বিদেশে সকলে অনেক বেশি প্রেইস করেছেন, একসেপ্ট করেছেন।
"আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, আসলে আমরা ইকোনমিকে যেভাবে চালাতে চাচ্ছি—এটা কিন্তু বড় বড় প্রকল্পে ইনভেস্ট করার পাশাপাশি যদি আমরা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর ইনভেস্ট করি, মানুষের জীবনমানের ওপর ইনভেস্ট করি, তাহলে আসলে একটু একটু করে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে।"
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, "এটার হয় কি আসলে, এই ইনভেস্টমেন্টগুলো একটু সাময়িক ইনভেস্টমেন্ট হয়। আমরা এই ইনভেস্টমেন্টগুলোর সাথে সাথে, তাদেরকে কীভাবে জাতীয় ইকোনমিতে কানেক্ট করা যায়, নারীদেরকে কীভাবে জাতীয় ইকোনমিতে কানেক্ট করা যায়, যুবকদের কীভাবে জাতীয় ইকোনমিতে কানেক্ট করা যায়, তাদের কর্মসংস্থান কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই জায়গাতেও কিন্তু আমরা কাজ করছি।
"কেবলমাত্র কার্ড দিয়ে, ভাতা দিয়ে মাসিকভিত্তিতে তাদেরকে আমরা সেটার ওপর ডিপেন্ডেন্ট করে রাখতে চাচ্ছি না। বরং সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে স্বাবলম্বী করে তাদের জাতীয় অর্থনীতির ভেতরে কানেক্ট করা যায়, সেটারই চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।"
সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের তরফে কোনো সমস্যার কথা এসেছে কিনা জানতে চাইলে ফারজানা শারমীন বলেন, "উনারা অনগোয়িং প্রবলেমগুলোকে আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করেছেন।
"আসলে সময় তো খুব অল্প থাকে, যতটুকু পেরেছেন তারা আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন যে এই সেক্টরগুলোতে কাজ করা উচিত। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।"
তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার বার্তা
দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার উদ্যোগের কথা ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "একদম তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার যে চেষ্টা, সেটাকে যাতে আমরা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, সেই আলোচনা (ডিসি সম্মেলনে) হয়েছে।"
খেলার মাঠে হকার পুনর্বাসন হবে কিনা–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনজন মন্ত্রী এবং সচিবরা ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠগুলো পরিদর্শন করেছেন।
“যেগুলো খেলার উপযোগী মাঠ, সেগুলোতে নিশ্চয় তারা হকার পুনর্বাসন করবেন না এবং সেই বিষয় নিয়ে আমরা প্রয়োজনে তাদের সাথে কথা বলে সেগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।"
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়টি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির সাতটি স্থানে হকারদের বেচাকেনার সময়ও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর সিটির দুটি স্থানে পুনর্বাসনের তথ্য মিলেছে, তবে সময়ের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হল গুলিস্থানের রমনা ভবনের লিংক রোড, এখানে প্রতিদিন বসবেন হকাররা।
এছাড়া গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেইট সংলগ্ন লিংক রোড, নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেইট সংলগ্ন এক পাশে, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে মাঠ সংলগ্ন রাস্তায় প্রতিদিন হকাররা বসতে পারবেন।
সান্ধ্যকালীন বেচাকেনা হবে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ, মতিঝিলের ইসলাম চেম্বারের সামনের জায়গা ও রাজউক ভবনের পেছনে।
আরও পড়ুন-
ঢাকার দুই সিটির ৩০২ জন হকার পেলেন ডিজিটাল পরিচয়পত্র, স্থানও ঠিক হল