Published : 25 Mar 2025, 05:25 PM
ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘স্থরিবতা’ কাটার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন।
তবে, ওই বৈঠক চেয়ে দিল্লিতে যে চিঠি পাঠিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, এখনও সেটার ‘ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায়’ থাকার কথা বলেছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর এবং বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে সোমবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ইউনূস-মোদী বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “আমরা যেকোনো দেশের সাথে শীর্ষ পর্যায়ের যে বৈঠক, সেই বৈঠককে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি এবং ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
“এবং আমরা আশা করি যে, যদি এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে সৃষ্ট স্থবিরতা, সেটা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
ঢাকার এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকার কথা তুলে ধরে জসীম উদ্দিন বলেন, “আমাদের দিক থেকে আমরা বলতে পারি, আমরা এই বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আছি এবং ভারতের দিক থেকে একটা ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায় আছি।”
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন আগামী ২ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে হওয়ার কথা।
সম্মেলনে যোগ দিতে সেসময় থাইল্যান্ডে যাওয়ার কথা রয়েছে ইউনূস ও মোদীর। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের ইচ্ছা জানিয়ে দিল্লিকে বার্তা পাঠায় ঢাকা।
গেল সপ্তাহে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে একটি বৈঠক করার ব্যাপারে আমরা কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”

ছাত্র-জনতার তুমুল গণআন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপর থেকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর দুই দফায় দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। বিমসটেকের সম্মেলনে ঘিরে আবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ জোটের ষষ্ঠ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা পিছিয়ে নভেম্বরে করার চিন্তাভাবনা করা হয়। ওই সময়ও ইউনূস ও মোদীর বৈঠকের কথা উঠেছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের কথা উঠেছিল। কিন্তু শেষমেশ তাও আর হয়নি।
কারণ হিসেবে গত ২১ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। কাজেই সেখানে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে।”
ওই বৈঠক না হওয়ার কারণ হিসেবে সেসময় মুহাম্মদ ইউনূসের ‘একটি সাক্ষাৎকারকে’ সামনে আনে কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
দুদেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন ব্যক্তিদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, “ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূসের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে, বৈঠকটি হবে না। ইউনূসের বক্তব্য নয়াদিল্লি ভালোভাবে নেয়নি।”
মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সাক্ষাৎ হতে পারত গত বছরের অক্টোবরেও; সামোয়াতে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে। কিন্তু দুই নেতার কেউই তাতে যোগ দেননি।
৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগের দিন ৩ এপ্রিল মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন বলেন, বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকের সদস্যরাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার ‘মেরিটাইম ট্রান্সফোর্ট কোঅপারেশন’ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হতে পারে।
“এ চুক্তি বাণিজ্যিক শিপিং এবং সামুদ্রিক পরিবহন শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এবারের ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন নতুন বাংলাদেশের জন্য বিমসটেকের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক অঙ্গনে নতুন পদচারণা।
“এবারের সম্মেলন আমাদের জন্য দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে উপস্থাপনের সুযোগ এনে দেবে।”