১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়, উপকূল ও সমতলের তিন গ্রাম হবে ‘এসডিজি ভিলেজ’

স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করে এসব গ্রামে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 09:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

পাহাড়, উপকূল ও সমতল অঞ্চল থেকে তিন গ্রাম নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

গ্রাম তিনটি হলো দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে ‘এসডিজি ভিলেজে ‘ রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

‘রিফ্লেকশন অন এসডিজি লোকালাইজেশন অ্যান্ড এসডিজি ভিলেজ পাইলটিং প্রোগ্রাম’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে তিন দিনের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) উপসচিব মো. আরিফুল হক মামুন রূপরেখা তুলে ধরেন।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার সমন্বয় করে নির্বাচিত গ্রামগুলোতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে।

তিন গ্রামের তিন সংকট

‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্পের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার তিনটি গ্রাম বেছে নেওয়া হয়েছে। নাফানগরকে দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা, পানখালীকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং মিতিঙ্গাছড়িকে পাহাড়ি জনপদ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের নাফানগরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মানুষের বাস। গ্রামটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র এবং শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হার প্রায় ৭০ শতাংশ। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। তবে কাঁকড়া চাষকে ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা দেখছে সরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দিনাজপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ এলাকার বড় সুগার মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এখানে কর্মসংস্থান কমে গেছে; দারিদ্রতা বেড়েছে। 

“এ এলাকা কৃষিপ্রধান। গ্যাসের সরবাহ নেই। তাই ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার মতো তেমন সুযোগ নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়েবে। সেই সঙ্গে উদ্যোগটা সৃষ্টি করার জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।” 

খুলনার পানখালীতে প্রধান সংকট নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, সুপেয় পানি ও সেচের সংকট। সিডর, আইলা ও আম্ফানের মতো দুর্যোগে এ এলাকার অবকাঠামো ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় হলেও নারী-পুরুষের মজুরিতে বৈষম্য রয়েছে।

অন্যদিকে রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়িতে ভৌগোলিক দুর্গমতা বড় বাধা। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে বাঁশ-বেতের কুটিরশিল্প, বনজ সম্পদ এবং কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে টেকসই পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, “এখানে সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামো নেই। উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ নেই। এখানে অনেক চাকরি পায় না। পাহাড়ের লোকজনকে চাকরির জন্য শহরে পোশাক কারখানায় আসতে হয়। তাই এলাকায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”

গ্রামভেদে লক্ষ্য ভিন্ন 

তিন গ্রামের জন্য স্থানীয় সংকট বিবেচনায় আলাদা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নাফানগরে কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থানের অনুপাত ২০ শতাংশে করা এবং নদী-নালা, খাল-বিলে দূষণবিরোধী অভিযানের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

পানখালীতে নিরাপদ খাবার পানির সুবিধাভোগী জনসংখ্যা শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আর মিতিঙ্গাছড়িতে ২০২৮ সালের আগে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে এনে পরপর তিন বছর তা ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলায় বেকারত্বের হার ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এম ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “তিনটা ভিলেজকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরিয়া আরেকটা নেওয়া যেত। চর এলাকা এখনো পিছিয়ে পড়া জনপদ। আমি অনুরোধ করব, পিছিয়ে পড়া চর এলাকা থেকেও একটা গ্রাম নেওয়া যেতে পারে।”