Published : 21 Jul 2026, 11:44 PM
সংসদে বিল উত্থাপন ও পাসের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘন ও স্থায়ী কমিটি গঠনে প্রচলিত চর্চা থেকে সরে এসে সরকারি দল ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতার একচ্ছত্র অপব্যবহার’ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূরক কার্যসূচিতে বিল উত্থাপন এবং যাচাই বা পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই তা পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটি গঠনে প্রচলিত সংসদীয় চর্চার ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেছে টিআইবি। সংসদীয় কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবিও তোলা হয়েছে সেখানে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, “কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী বিল উত্থাপনের পর বিলটি স্থায়ী কমিটিতে ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো অথবা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব করতে পারেন। তবে প্রচলিত সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বিল সাধারণত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর ক্ষেত্রে কোনোটিই করা হয়নি।”
টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানো বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বিরোধী সদস্যদের সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিলটির অনুলিপি সংসদ সদস্যদের কাছে উত্থাপনের ঠিক আগে সরবরাহ করা হয়েছিল।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিলটি সম্পর্কে প্রস্তাব করতে পারেন না। এক্ষেত্রে বিল উত্থাপনের কমপক্ষে তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি সরবরাহ করার রেওয়াজ থাকলেও, এই বিলটি উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে এর অনুলিপি সংসদ সদস্যদের সরবরাহ করা হয়।”
এতে সংসদ সদস্যরা বিলটি যাচাই করার ‘বাস্তবসম্মত সুযোগ’ পাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“ফলে বিলটি যাচাইয়ের জন্য একদিকে যেমন সংসদ সদস্যদের কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ দেওয়া হয়নি, অন্যদিকে কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে একতরফাভাবে আইনটি পাশ করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়েও আপত্তি তুলেছে টিআইবি।
সংস্থাটি বলেছে, “কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিরোধী দলের মতামত ও আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে।”
সংসদে স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বা সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব কমিটির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।”
জুলাই সনদ অনুযায়ী চারটি সংসদীয় কমিটির প্রতিটিতে অন্তত একজন করে নারী সদস্য রাখার আহ্বানও জানিয়েছে টিআইবি। একইসঙ্গে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রত্যেক নারী এমপিকে কমপক্ষে একটি সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তোলা হয়েছে।