Published : 19 Jul 2026, 05:07 PM
‘জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে ৩৪ কোটি ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিরুদ্ধে করা মামলায় আর একজনের সাক্ষ্য বাকি আছে।
রোববার পর্যন্ত মামলার ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। শেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দির দিন রাখা হয়েছে ৯ অগাস্ট।
এদিন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাস্ট ইসলামী সিকিউরিটি ব্যাংক পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এরপর কারাগারে থাকা রাশেদুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ তাকে জেরা শেষ করেন।
অপর আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ বাবুল বেপারী জেরা পেছাতে সময় আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে অবশিষ্ট জেরার দিন রেখেছেন ৯ অগাস্ট, যেদিন তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দির দিন ধার্য করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন বলেন, “এর আগে এ মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। আজ একজন সাক্ষ্য দিলেন। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেবেন। তার সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্য শেষ হবে।”
গত ১৯ জানুয়ারি এস আলম, পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।
অন্য আসামিরা হলেন- এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। পি কে হালদার ভারতের কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানে আাওয়ামী লীগের পতনের পর এস আলমকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি বিদেশে রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। অন্য আসামিরাও পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক। এরপর ২২ জুন পাঁচজন ও ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য দেন।
এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্রের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি ও তাকে জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হবে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী বলেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিংয়ের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদী ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিতরণের অভিযোগ আনা হয়। এই টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ১৩ জনকে আসামি করে ১৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।