১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গবাজারের ১০০ দোকানিকে অনুদানের এক কোটি টাকা হস্তান্তর বিদ্যানন্দের

ঈদের পর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীদের আরও এক কোটি টাকা হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Apr 2023, 06:20 PM

Updated : 19 Apr 2023, 06:20 PM

বঙ্গবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একশ দোকান মালিককে এক কোটি টাকার অনুদান তুলে দিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

বুধবার ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি জানায়, বিদ্যানন্দের অনলাইন ক্যাম্পেইনে প্রায় দুই কোটি টাকা অনুদান মিলেছে। এর প্রথম ধাপে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হল।

“আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ জন দোকান মালিকের প্রত্যেককে নগদ এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান কর্মচারীদেরকে অবশিষ্ট নগদ এক কোটি টাকা হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দানশীল মানুষ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, ছোট থেকে বড় বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানুষ তাদের সহযোগতিার হাত বাড়িয়েছেন, সেই অর্থে আজকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যানন্দের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত বছর বিএম ডিপোতে দেশের ইতিহাসে বড় অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন স্বঃপ্রণোদিত হয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিল।

“একই রকমভাবে কোভিডের সময় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন হিসেবে তারা চমৎকার কাজ করেছে।”

বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডকে ‘মানবসৃষ্ট বিপর্যয়’ হিসাবে বর্ণনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ঢাকার সাতটি মার্কেট অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে বঙ্গবাজারও ছিল।

“আপনারা পরবর্তীতে দেখেছেন, বঙ্গবাজারে যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, সেটি নেভানোর জন্য পানির উৎস, যে রাস্তাগুলো ব্যবহার করে অগ্নিনির্বাপকরা ঢুকবে, অগ্নিনির্বাপণ করবে, সেই রকম পর্যাপ্ত স্পেসও ছিল না। যার কারণে আগুন নেভাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।”

এ সময় ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, “আমরা চাই না, বঙ্গবাজারটি আগে যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থায় আর ফিরে যাক। শুধু দোকান মালিক ও কর্মচারী নয়, ক্রেতা সাধারণদের জন্যও একটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা ছিল, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

“আমরা চাইব, ভবিষ্যতের বঙ্গবাজার যেটি হবে, সেটি ঢাকার শহরের এবং সমস্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো ও আধুনিক একটি বিপণিবিতান বা আধুনিক একটি শপিং কমপ্লেক্স হিসাবে গড়ে উঠুক।”

এর আগে বঙ্গবাজারের দুর্ঘটনার সময় থেকেই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন অনলাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে আহ্বান জানায়। নগদ টাকা অনুদানের পাশাপাশি আগুনে পোড়া কাপড় নিলাম মূল্যে কিনে হলেও সেসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তখন আহ্বান জানানো হয়।

সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে মন্ত্রী থেকে শুরু করে গুণীজন-সেলিব্রেটিসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসে।

জেলা প্রশাসনের সহায়তা ও সমন্বয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছে। ঈদ সামনে রেখে তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঈদের আগেই এই সহায়তা তুলে দেওয়া হল।

বিদ্যানন্দের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুখ আহমেদ বলেন, “জনগণ সহযাগিতা করেছে, আমরা মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছি। আশা করি আপনারা ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

“আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যারা সামাজিক কাজ করি, তারা ভালোভাবে কাজটা করতে পারি, সকল সমালোচনার উর্ধ্বে থেকে আমরা যেন কাজটা করতে পারি সেই দোয়াটা আমাদের জন্য করবেন।”

অনুষ্ঠানে দোকান মালিকদের মধ্যে সালামত ফ্যাশনসের মাওলানা মোরশেদ আলম, জামালপুর গার্মেন্টেসের আব্দুর রাজ্জাক ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন।

এ সময় ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী হাফিজুল আমিন ও বিদ্যানন্দের বোর্ড সদস্য জামাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।