১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বেনজীরের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলল হাই কোর্ট

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ফের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2024, 08:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:07 AM

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে এবং দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

দুদকের প্রতিবেদন তুলে ধরে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। 

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এম সারোয়ার হোসেন। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, “গত রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আদালতে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়; যেখানে বেনজীর, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে তাদের অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেন হাই কোর্ট।”

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান নিয়ে দুদকের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছিল হাই কোর্ট। সেই প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে। 

“আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে দুদককে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে বলেছেন। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ফের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। আর অভিযোগের প্রমাণ মিললে দুদককে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”   

‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে গত ৩১ মার্চ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। এর দুই দিনের মাথায় গত ২ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দ্বিতীয় দফার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো অভিযোগ পেলে স্বউদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করতে পারে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে পরপর দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও কমিশন অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়নি। এ কারণে গত ৪ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। 

এরপরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেন তিনি। 

এরপর বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তিনি রিট আবেদন করেন।