Published : 30 Aug 2025, 07:59 PM
দেশের নগর এলাকায় বাস করা ‘প্রায় ৭ কোটি’ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নতুন বন্দোবস্তের কথা ভাবছে সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেছেন, এর জন্য শহরাঞ্চলে ওয়ার্ডভিত্তিক ‘জেনারেল প্র্যাকটিশনার’ বা ‘জিপি’ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে।
সোমবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ আরবান ইয়ুথ কনফারেন্সে’ কথা বলছিলেন সায়েদুর রহমান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রামীণ কাঠামো অনেক গুছানো। কিন্তু দেশের নগরে প্রায় ৭ কোটি মানুষ থাকেন। তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের কেন্দ্রগুলো গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবার মত গুছানো না। নগরে বাস করা এসব মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন বন্দোবস্তে আলাদাভাবে চেষ্টা করা হবে।
“পৃথিবীর বিভিন্ন মডেল আছে। তবে আমরা ভাবছি বাংলাদেশে হয়ত ওয়ার্ডভিত্তিক ‘জেনারেল প্র্যাকটিশনার’ ইউনিট হওয়া খুব ভালো হবে। ‘জিপি’ কেমন, সেটা কত সময় ধরে থাকবে, সেই জিপিদের সঙ্গে কী কী সুবিধা থাকা দরকার সেটাও ভাবা হচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে যুব সমাজ অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ রূপান্তরের পথে হাঁটছে, আর এই রূপান্তরের কেন্দ্রে আছে উন্নয়ন, আর উন্নয়নের কেন্দ্রে আছে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নের কেন্দ্রে আছে যুবসমাজ। যুব সমাজের যে উচ্চারণ, উনারা যেই দিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিতে চাইবে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ওই দিকেই যেতে হবে।”
আইপাস বাংলাদেশের ‘ইমপ্রুভিং এসআরএইচআর ইন ঢাকা’ প্রকল্পের উদ্যোগে এ সম্মেলনে অর্থায়ন করেছে কানাডা সরকার। সহযোগিতা করেছে ‘হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন’।
‘ইয়ুথ কনফারেন্সে’ ভবিষ্যৎ নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে ‘সম্মিলিত ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল ও রূপরেখা তৈরি করতে হবে, যাতে নগরবাসীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়। প্রতিটি মহল্লায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সরকারি বিধিমালার আওতায় শুধু নিবন্ধিত চিকিৎসক বা জিপি দিয়ে করতে হবে। জিপিদের দেওয়া স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাখা, প্রতিটি ওয়ার্ডে সব মানুষের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে দিনে ও রাতে দুই পালায় সমন্বিত জনসচেতনতা, রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে ঘোষণাপত্রে।
আরবান ইয়ুথ আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সৈয়দ রুবাইয়াত, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।