১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

“এ দেশ আপনার, আমার, সকলের। সব কষ্ট ভুলে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে,” বলেন তিনি।

পুলিশকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে: ডিএমপি কমিশনার
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Nov 2024, 08:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:01 AM

সরকার ক্ষমতার পালাবদলের পর ভেঙে পড়া পুলিশি ব্যবস্থা থেকে বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়নে পুলিশ সদস্যদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেছেন, “আমাদের মূল কাজ হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া। এ দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক কাজ করে পুলিশের ভাবমূর্তি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। সব কষ্ট ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

“এ দেশ আপনার, আমার, সকলের। সবকিছু ছেড়ে আমাদের চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদেরকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এ দেশের মানুষকে সেবা দিতে হবে। তাই সব কষ্ট ভুলে গিয়ে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে।”

দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে মানুষের সেবায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শনিবার ঢাকার মিরপুরে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) শহীদ এসআই শাহজাহান মিলনায়তনে কল্যাণ সভায় কথা বলেন তিনি।

জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্র-জনতার মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে বিভিন্ন থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। থানায় আগুন দিয়ে পুলিশ হত্যার ঘটনাও ঘটে। আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পরও বিভিন্ন থানায় ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাট চলে। এতে সারা দেশের থানাগুলো পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। পুরো পুলিশি ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়ে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপক রদবদল শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ক্ষমতার পালাবদলের পর ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পান মো. মাইনুল হাসান। তবে তিন মাসের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দিয়ে গত ২০ নভেম্বর নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় সাজ্জাত আলীকে।

শনিবারের কল্যাণসভায় তিনি বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের পরিচিত হন। পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। তাদের সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের নির্দেশ দেন। অন্যান্য বিষয় বা দাবি-দাওয়াগুলোও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

কল্যাণ সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ বলেন, “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, সেখান থেকে পুলিশের পুনর্গঠন এবং আপনাদের দায়-দায়িত্ব পালন করা সত্যিই দুরূহ কাজ ছিল। সেই পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।

“নিজেদের ও পুলিশ বাহিনীর স্বার্থে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। প্রত্যাশা থাকবে আমরা যেন একসঙ্গে কাজ করে ডিএমপিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে পারি।”

সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মো. ইসরাইল হাওলাদার, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান, অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিমসহ ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।