Published : 19 Apr 2026, 04:59 PM
ইরান যুদ্ধের জেরে সরকার বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেন, “এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা । কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রায় কিনতে হয় সেটা যাতে বেড়ে আমরা সহনীয় লেভেলে থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করেছি।”
সোমবার সাচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলছিলেন মন্ত্রী।
এর আগে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে তারা দেখা করেছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে দেখা করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। জ্বালানি তেলের সর্বশেষ পরিস্থিতি তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটা যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে আছি। সারা বিশ্ব তাদের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। এমন কি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে।
“সেখারে আমরা বাংলাদেশে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইমপোর্ট করে আমরা যে স্টক তৈরি করেছি তার যে দাম পড়েছে সেই দামের থেকে নিচে আমরা এখন প্রাইজ এডজাস্ট করছি।”
এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “ভুর্তকি এখনো আছে। আপনি যদি সঠিক হিসাব জানতে চান সেটা মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “যুদ্ধের মানেই বিরুপ প্রভাব পড়া। এই যুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতে প্রভাব পড়েছে। আমাদের ওপরেও সেই প্রভাব আছে।”
সরকার শনিবার রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে, যা মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরে ডিজেলের লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন ১৮ টাকা (আগের দর ১১২) বেড়েছে।
এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এ চার ধরনের তেলের দাম প্রায়ই একই রকম ছিল। সবশেষ এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। আর এর আগের কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সমন্বয় করতে বাড়ানো বা কমানো হলেও তা এক দুই টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকার কারণে এবার এক লাফে তা ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হল।
শনিবার নতুন দর নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে জেট ফুয়েলের দর বাড়ানো হয় কয়েক দফায়। দাম বেড়েছে ফার্নেস অয়েলেরও।
সরকারের তরফে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর কথা বলা হলেও ৭ এপ্রিল ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজন হলে মে মাসে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত আছে
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির প্রথমে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সঙ্গে সভা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাতসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
পরে এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, “সামনে বর্ষা আসছে, বন্যা হতে পারে, প্লাবন হতে পারে। আগাম আমাদের কী কী কাজ করা দরকার সে সব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো উনাকে অবহিত করা হয়েছে।”
পানি সম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। আগামী ২৭ তারিখ যশোর এবং ২ মে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।