Published : 22 Jul 2026, 06:37 PM
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচার নিষ্পত্তিতে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠিয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই আইনজীবী দুটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে আপিল বিভাগে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং দ্বিতীয়ত, বেঞ্চগুলোকে বিশেষায়িতভাবে বিভক্ত করা।
চিঠিতে মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের মাঝে বিরাজমান হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আপিল বিভাগের বর্তমান সংকট তুলে ধরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আপিল বিভাগে এখন মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ বিচারক আছেন মাত্র চারজন। মামলা ‘পেন্ডিং’ আছে প্রায় ৩৮ হাজার।”
বিচার ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করে শিশির মনির বলেন, “আপিল বিভাগে যদি বিশেষায়িতভাবে বিভিন্ন বেঞ্চ গঠিত না হয়, তাহলে বিচার ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। এটা কোন সরকার বা ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, এটা ২০ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজন।”

তার মতে, বর্তমান যে অবস্থা চলছে তাতে বিচারকরা সপ্তাহে সাত দিন কাজ করলেও আগামী দশ বছরে এই বিশাল মামলাজট নিরসন করা সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের যাত্রা শুরুর সময় আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন চারজন এবং বিচারাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ। বর্তমানে ১৭ কোটি ৮১ লাখ জনসংখ্যার দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টি, অথচ বিচারপতির সংখ্যা সেই মাত্র চারজন।
চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেন, সে সময় মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। এরপর বিভিন্ন বছরে বিচারপতির সংখ্যা কমতে থাকলেও মামলার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে নয়জন বিচারপতির বিপরীতে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৯২৮টিতে।
উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে শিশির মনির বলেন, সেখানে সর্বোচ্চ আদালতগুলো সিভিল, ক্রিমিনাল, রিট এবং কোম্পানি ম্যাটারের মতো বিভিন্ন বিশেষায়িত বেঞ্চে বিভক্ত থাকে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব বেঞ্চ একসাথে বসে শুনানি করে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের ১৬ মে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ জন থেকে বৃদ্ধি করে ৩৮ জন করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট মামলার গভীরে গিয়ে বিচার করতে অন্ততপক্ষে নয়জন বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন না করলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে না বলে মনে করেন এই আইনজীবী।