Published : 25 Jun 2025, 06:54 PM
দেশের অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীরা এখনও পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মত উঠে এসেছে বাংলা একাডেমিতে এক সভায়।
বুধবার সেখানে মতবিনিয় সভায় ‘ন্যাশনাল গ্রাসরুট ডিস্যাবিলিটি অর্গানাইজেশন’ (এনজিডিও) এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও মানবাধিকারের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার ও মৌলিক চাহিদা পূরণেও তারা ব্যর্থ হচ্ছে।
এনজিডিও, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেইঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান), ডিস্যাবলড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (ডিডাব্লিউএস) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ডিস্যাবলড উইমেন (এনসিডিডাব্লিউ) এ মতবিনিময় সভা আয়োজ করে। সেখানে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন সাইফুর রহমান।
সভায় ডিডাব্লিউএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা আহমেদ বলেন, “দেশে নানারকম উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, রাস্তাঘাট হচ্ছে। জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এসব উন্নয়নের সঙ্গে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সেভাবে যুক্ত হতে পারছে না।”
বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, “আমরা ফান্ড পাই বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে। বিভিন্ন কারণে তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদি পেটে ক্ষুধা থাকে তাহলে কিন্তু অন্য কাজ হয় না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাৎসরিক সহযোগিতা দেওয়া জরুরি।”
২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়ে কিছু এনজিওর ফান্ডিং বন্ধ হওয়ার শঙ্কার কথা উঠে এসেছে মতবিনিময় সভায়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান সভায় বলেন, “যদি ফান্ডিং বন্ধ হয়ে যায়, সেটা নিয়ে আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের ফান্ডে সংগঠনগুলো চলার একটা ব্যবস্থা আমরা করার চেষ্টা করব।”
প্রতিবন্ধী সংগঠন কে, কোথায়, কোন ফান্ডিংয়ে, কীভাবে কাজ করছে- তা নজরদারির কথা বলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “প্রতিবন্ধীদের অধিকার সাংবিধানিক অধিকার। এটা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রতিবন্ধী অধিকার প্রতিষ্ঠা, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করে থাকি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের রয়েছে, যেগুলো প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করছে।”
সমাজসেবা অধিদপ্তর নানারকম ভাতা, উপবৃত্তি ও সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।