Published : 23 Jan 2026, 02:06 AM
দুই ভাইয়ের আদরের বোন পাঁচ বছরের আরিফা আক্তার। ছোট্ট সেই বোনকে মাঝে মধ্যে খেলনা কিনে দিতেন বড় ভাই। এতে বাঁধ সাধেন ভাবি; করেন স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াও। এ নিয়ে বিবাদের জেরে ওই শিশুকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার আসামি নিহত শিশুর ওই ভাবি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মওদুদ কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসামি হত্যার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।”
তিনি বলেন, আসামি কিশোরী হওয়ায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নেওয়া হয়। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরপর ওই কিশোরীকে গাজীপুরে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেন।
এদিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরিফাকে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, সে দুই মাসের অন্তঃসত্বা।
বুধবার ঢাকার ভাটারা থানার কুড়িলের মৃধাবাড়ি এলাকায় শিশু আরিফার লাশ পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রাজিব বেপারী ভাটারা থানায় তার বড় ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মামলার এজাহারে রাজিব বেপারী বলেন, তিনি বড় ছেলে হাসানকে নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপে দিনমজুরের কাজ করেন। দেড় বছর আগে হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ছেলে ও ছেলের বউসহ একত্রে বসবাস করেন। তবে বিয়ের পর থেকে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা শুরু করে। আরিফাকে তার বড় ভাই হাসান কিছু কিনে দিলে সেটা নিয়েও ঝামেলা করে। এমনকি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সবসময় তর্ক-বিতর্ক করতে থাকে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার আরিফার জন্য একটি প্লাস্টিকের পুতুল ও একটি ফুল কিনে আনেন হাসান। তখন আরিফা ঘুমে ছিল। এজন্য বোনের জন্য নিয়ে আসা ওই পুতুল ও ফুল রুমের শোকেসে রেখে দেয় হাসান। পরে পাশে তার রুমে চলে যায়। পুতুল ও ফুল কিনে আনায় হাসানের সঙ্গে তার স্ত্রীর রাতে ঝগড়া, কথা কাটাকাটি হয়। পরে একপর্যায়ে সবাই ঘুমিয়ে যায়। পরদিন সকালে আরিফাকে ডাকাডাকি করে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকেন মা।
মামলায় বলা হয়, মন ভালো না থাকায় কাজ না করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় চলে আসেন রাজিব বেপারী। বাসায় এসে জানতে পারে আরিফাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তিনিসহ পরিবারের সবাই খোঁজাখুজি করেও তাকে পাননি। দুপুর ২টার দিকে সিসিটিভি ফুটেজে তারা দেখেন, আরিফা বাসা থেকে বের হয়নি। তারা বাসায় ভালোভাবে খুঁজতে থাকেন। পরে বাসার নিচতলায় পানির ট্যাংকে আরিফাকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
এজাহারে বলা হয়, পরে আরিফার বিষয়ে জানতে চাইলে তার ভাবির কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে বাসায় আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে আরিফাকে সকাল সাড়ে ৭টায় গলা টিপে হত্যা করে লাশ গুম করে পানির ট্যাংকির ভেতরে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে ভাটারা থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে আরিফার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। আর আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
মামলার বাদী রাজীব বেপারী বলেন, "আমি ন্যায় বিচার চাই। আমার ছেলে তার ছোট বোনকে কিছু কিনে দিলেই ও (আসামি) সবসময় হিংসা করতো। আমার আদরের মেয়েটাকে তো মেরেই ফেললো। এখন আর কি বলবো, সব কিছু থানায় বলছি।“
আরিফাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা ছোট সিদুলকোড় এলাকায় দাফন করার কথা বলেছেন তিনি।