Published : 03 May 2026, 08:25 PM
একটি প্রতারক চক্র ট্রাফিক আইন অমান্য সংক্রান্ত ভুয়া মামলার কথা বলে জরিমানা পরিশোধের জন্য বার্তা পাঠাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার রোববার এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলেছেন, সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরায় শনাক্ত করে ‘অটো জেনারেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় যেসব মামলা হয়, সে বিষয়ে যানবাহন মালিক বা চালকের নামে নোটিস পাঠানো হয় রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে।
সুতরাং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত মামলার জরিমানা পরিশোধের জন্য কেউ মোবাইল ফোনে এসএমএস দিলে তার ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
সেখানে বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও-সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দিলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হল।”
যানবাহনের মালিক ও চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ভিডিও- স্থিরচিত্র ধারণ করে থাকে। পরবর্তীতে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক-চালকগণের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড’ নোটিস রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।
"এসব নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ডিএমপি সদরদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে গিয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা, ব্যাংক-মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।”
এসবের বাইরে ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা কেউ দিলে তা পরিহার করতে বলা হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
ডিএমপি সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল, ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা ও এআই সফটও্যার স্থাপন করেছে।
এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলেছে, “এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল, ক্রসিংয়ে লালবাতির সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং, লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে।”