Published : 07 Nov 2025, 11:50 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
শুক্রবার অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “অভিযোগপত্রে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।”
অভিযোগপত্র যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন-মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ ও মো. রবিন।
এরা সবাই ‘মাদক কারবারী’ এবং তারা সবাইকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন-তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক, পলাশ সরদার ও সুজন সরকার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায়’ সাম্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলেছেন আখতার মোর্শেদ।
গেল ১৩ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন সাম্য।
রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এ এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। একই হলে ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রোববার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় ১৪ মে সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেদিন তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।
পুলিশ বলেছিল, ঘটনার রাতে রাজধানীর রাজাবাজারসহ কয়েকটি এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার করা মাদারীপুর সদরের এরশাদ হাওলাদারের ছেলে তামিম, কালাম সরদারের ছেলে পলাশ ও ডাসার থানার যতিন্দ্রনাথ মল্লিকের ছেলে সম্রাটকে ১৭ মে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। ২৪ মে ফের তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
তার আগে ১৫ মে সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী এলাকায় তামিমের বাড়ির দুটি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন।
তদন্তের পর তামিমসহ এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা আখতার মোর্শেদ।
আগের খবর: