হাই কোর্টের সামনে লাশ: ‘দোষ স্বীকার করে’ দুজনের জবানবন্দি
পাঁচ দিনের রিমান্ড চলার মধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।
হাই কোর্টের সামনে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে খন্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজ ও শমীমা আক্তার ওরফে কহিনুর আদালতে ‘দোষ স্বীকার করে’ জবানবন্দি দিয়েছেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড চলার মধ্যে মঙ্গলবার আদালতে তারা জবানবন্দি দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের এসআই মো. এনামুল হাসান তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। এরপর জরেজের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল ওয়াহাব। আর শমীমা আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া।
জবানবন্দি নেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে জরেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। লাকসাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শামীমাকে। পরদিন তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেইটের কাছে নীল ড্রাম থেকে খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২৬ টুকরো লাশের প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেইজ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। লাশটি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফুল হকের।
এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বোন। হত্যাকাণ্ডে নিহতের ‘বন্ধু’ জরেজ নামে একজনকে ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে খোঁজার কথা বলেছিল পুলিশ।
শনিবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরেজের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
এরপর দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে জরেজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা আসলে একটা ‘ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী’। ‘প্রেমঘটিত সংকট থেকে’ আশরাফুলকে হত্যা করা হয়।
