Published : 01 Sep 2025, 05:49 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ‘প্রস্তুত’ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, তারা কোনো ধরনের অভিযোগ নিতে রাজি নন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন তিনি।
সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন নাসির উদ্দিন।
এ সময়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার কথাও বলেছে সিইসি।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি জানতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতেই এই বৈঠকে বসেছিলেন জ্যাকবসন।
সিইসি বলেন, "মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত প্রস্তুতি বুঝতে এসেছিলেন। এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতি, বিশেষ ধরনের সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির কথা জানিয়ে আমাদেন চিঠি দিয়েছিলেন। রমজানের আগে ভোটের কথা বলেছেন। আমরা প্রস্তুতি জোরদার করেছি এটা ঠিক। তবে প্রস্তুতি আগেই শুরু করেছি।"
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, "নানা ধরনের টানাপোড়েন আছে। সেজন্য হয়ত সময়টা ঠিক করতে একটু সময় লেগেছে। আমরা চেয়েছি আমাদের ওপর যেন প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয় এই ধরণের ব্লেম যেন না আসে। আমরা কোনো ধরণের ব্লেম নিতে রাজি নই। সেই জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।"
রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত এক ধরনের বোঝাপড়ায় পৌঁছাবেন বলে আশা করেন সিইসি।
সিইসি বলেন, "আমাদের দলগুলো দেশের স্বার্থ সবার উপরে। তারা দেশের স্বার্থে দেশের জন্য কাজ করেন। শেষ পর্যন্ত একটা সমঝোতায় আসবে দেখবেন। গতকাল থেকে প্রধান উপদেষ্টা আবার শুরু করেছেন। এটাও জানিযেছি। বিশ্বাস করি একটা সমঝোতা হবে।"
চলমান মব সংস্কৃতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভোটের সময় থাকবে না বলে মনে করেন নাসির উদ্দিন।
"মব কালচার যেটা উনি জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি ভোটের এখনো দেরি আছে। যারা মব সৃষ্টি করে দেখবেন ভোটের সময় এলাকায় চলে যাবে। আর পাওয়া যাবে না। ঢাকা শহরই তো ভোটের সময় খালি হয়ে যায়। তাদের আর পাওয়া যাবে না।"
গুজব কানে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিইসি।
তিনি বলেন, "একটা কথা তিনি (ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ) ফাঁক দিয়ে বলেছেন গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে। আমি বলেছি এই দেশটা গুজবের দেশ। তিনি আবার গুজবটা দুর করতে চাই। আমি গুজব কানে না নিতে বলেছি।"
নির্বাচনি আইন সংস্কার পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোটিংসহ সার্বিক অগ্রগতিও দূতাবাস প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয় বলে জানিয়েছেন সিইসি।
" আমরা পুরো নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা ফেরত আনার ব্যবস্থা করছি।"
নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সিইসি বলেন "ভোটের দায়িত্বে ৯৫ শতাংশ সরকারের লোক আর ৫ শতাংশ ইসির তিনি এমন বলেছেন। আমি বলেছি সরকার ৯৫ শতাংশ যদি রেজাল্ট নিজের দিকে আনে এটা একটা। আরেকটা হল আমাদের ৯৫ শতাংশ জনগণের পক্ষে। এটা সৎ উদ্দেশ্যে। অতীতে এটা অপব্যবহার হয়েছে। উনি বলেছেন এটা ঠিক। আমি বলেছি সরকারকে বাদ দিয়ে ভোট সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী লাগবে, বাজেট লাগবে, উনাদের সহযোগিতা ছাড়া ভোট সম্ভব নয়। ৯৫ শতাংশ সরকারের লোকবল রেজাল্ট নিজেদের পক্ষে নিচ্ছেন না কেননা, সরকার প্রধান কোনো দলের না। তিনি স্বাধীনভাবে ইসি যেন কাজ করতে পারে, সে সহযোগিতা করেছেন, সেটাও জানিয়েছি।"
সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি
সিইসি বলেন, "মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠকে কালো টাকার কথা এসেছে, এটা একেবারে বন্ধ করতে তো পারব না। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বসেছি সেটাও জানিয়েছি। আমি আশাবাদী, সর্বশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইট করবো। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে সুন্দর নির্বাচন যেন সে চেষ্ট করবো।"
তিনি বলেন, "প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করবো। কানাডা যাবো, সেখানে সুবিধা অসুবিধা জানবো। যারা ভোটের দায়িত্বে থাকেন তারা ভোট দিতে পারে না। এবার সে ব্যবস্থা করবো। এটা জানিয়েছি। এক্ষেত্রে আইটি সাপোর্টের পোস্টাল ব্যালটের কথা বলেছি।"
এর আগে জ্যাকবসন বলেন, "আমরা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। তবে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করি তাদের নীতি ও লক্ষ্য বুঝতে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনীতিবিদকেও সমর্থন করি না, তবে তাদের লক্ষ্য বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করি।
“আমরা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি ফলাফলও সমর্থন করি না। এটা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত, এবং আমরা আশা করি আপনারা সফলভাবে সেটি সম্পন্ন করবেন।"