১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই পিও দুদকের ডাকে হাজির হননি

“জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কৌশল কাজে আসবে না,” বলেন দুদকের মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুই পিও দুদকের ডাকে হাজির হননি
ফাইল ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2025, 09:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:45 PM

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ছাত্র প্রতিনিধি তুহিন ফারাবি ও মাহমুদুল হাসান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডাকে হাজির হননি।

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মঙ্গলবার ডেকেছিল সংস্থাটি।

এ বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কৌশল কাজে আসবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ তলব করা হয়েছিল, তারা উপস্থিত হননি। এখন পর্যন্ত তারা সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।

”এটা তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এ সুযোগ যদি তারা না নেন তাহলে এটা তাদের বিষয়। তাদের অনুপস্থিতির কারণে আমাদের অনুসন্ধান কাজ থেমে থাকবে না। দুদক আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলবে।”

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান শেষ করে তদন্ত দল প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারা দুদককে এড়িয়ে চলছে কি না এবং তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, “অনুসন্ধানের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন; অনুসন্ধান দলের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যেকোন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেন তাহলে তাদের জন্য কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে সেটি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা সেই বিষয়টি জানেন। নিশ্চয় তারা সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।”

কোনো উপদেষ্টাকে তলব করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই এখতিয়ার একান্তভাবে অনুসন্ধান দলের। তারা যাদেরকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মনে করবেন অথবা অভিযোগ প্রমাণে সহায়ক মনে করবেন তাদের যে কাউকে   জিজ্ঞাসাবাদের, বক্তব্য নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।”

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অনুসন্ধান দল তাদেরকে আরও একবার সুযোগ দিতে পারে। সেখানে নোটিসে লেখা থাকে যদি এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার কোনো বক্তব্য না পাওয়া যায় তাহলে ধরে নেওয়া হবে এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই। আমাদের চিঠিতে এ বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে। তিনি এ সুযোগ মিস করবেন। তার এই অনুপস্থিতির কারণে অথবা জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কৌশল কাজে আসবে না।”

সরকারের দুই প্রতিনিধি যে এলেন না, এটি খারাপ বার্তা দিল কী না– এমন প্রশ্নে দুদকের মহাপরিচালক বলেন “বিষয়টা আসলে সেরকম নয়। আমরা তাদেরকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করব।

”কেউ যদি সুযোগ না নেন সেই কারণে অনুসন্ধান থেমে থাকবে না।” 

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া এ বি এম গাজী সালাউদ্দিনকে আগামী ২১ মে এবং যুব ও ক্রীড়া ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেমকে ২২ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। তাদের দুইজনকেও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে দুদক।