১৫ অগাস্টে বাংলাদেশ জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের বাধা ‘স্বৈরাচারী আচরণ’: যুক্তফ্রন্ট
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ। কিন্তু সেদিন দলটির কার্যালয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
সোমবার গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫ অগাস্ট তোপখানা রোডে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা ও পণ্ড করে দিয়েছে।
“পুলিশ অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকে কার্যালয়টি দখল করে রাখে। রাজনৈতিক দলের অফিসে পুলিশ দিয়ে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এছাড়া সেদিন ধানমন্ডিতে মব সন্ত্রাসে জনগণকে হেনস্তা ও পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।”
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনের স্বাক্ষরে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন, দল কোন ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে, ভালোবাসবে, কিংবা শ্রদ্ধা করবে না বা ভালোবাসবে না, কী কর্মসূচি পালন করবে বা করবে না, তা নিতান্তই যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের স্বাধীন মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কোনো বাধা বা বল প্রয়োগ করতে পারে না।
“অথচ সরকার বাংলাদেশ জাসদের অনুষ্ঠানে বাধা প্রদান ও পণ্ড করা এবং ধানমন্ডিতে মব সন্ত্রাস ও গ্রেপ্তার করে সেই অধিকার হরণ করেছে। এ ছাড়া মবকেও সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। বাংলাদেশ জাসদ নির্ধারিত অনুষ্ঠানের খবর আগে জানালেও সরকারের দিক থেকে কোনো পূর্ব সতর্কতা না জানিয়ে বা আলাপ না করে পুলিশ দিয়ে জোরপূর্বক তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য করেছে। সরকারের এই ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণ।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ।
আগের দিন ১৪ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছিল, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলংক হিসেবেই থেকে যাবে।
“দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”
বাংলাদেশ জাসদের ওই কর্মসূচি কেন্দ্র করে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেছিলেন, “সেখানে কোনো ধরনের কর্মসূচি করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নেই।”
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বিবৃতিতে বলেছে, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু মানুষের সে আশা দুরাশায় পরিণত হতে চলেছে। এক স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণ আরেকটা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দেখতে চায়নি।
“কিন্তু বর্তমান সরকারের আচরণে জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা প্রতি মূহূর্তে হোঁচট খাচ্ছে। ফলে হতাশা বাড়ছে। মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করলে তা জনগণের সংহতি বিনষ্ট করে এবং অগণতান্ত্রিক অন্ধকারের শক্তিকে পুষ্ট করে।”
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন আল রশীদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ জাসদের অনুষ্ঠান পণ্ডের ঘটনায় বিচার দাবি করেন নেতারা।
