১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক হারুন-উর রশিদের জীবনাবসান

১৯৯৯-২০০০ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিরও সভাপতি ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Nov 2024, 06:26 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:24 PM

বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি ও মহাপরিচালক, গবেষক ও অনুবাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় তিনি ধানমন্ডির ইবনেসিনা হাসপাতালে মারা যান বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির পরিচালক কবি সরকার আমিন।

তিনি বলেন, “হারুন স্যার ছিলেন আমার দেখা এক মহান মানুষ। বলতাম- তিনি এই ‘শহরের সন্ত’। ধর্মপ্রাণ ছিলেন, ভালোবাসতেন সকল ধর্মের, বর্ণের, বিত্তের মানুষকে। ছিলেন অতুলনীয় অনুবাদক ও লেখক। সুফি লিটারেচারে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।”

কখন জানাজা হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান সরকার আমিন।

মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদের ব্যক্তিগত সহকারী সিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ৬ নভেম্বর থেকেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিডনিসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন ছিলেন।

মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদের মৃত্যুতে এক শোক জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।

বাংলা একাডেমিতে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ অভিধান প্রণয়ন ও প্রকাশ, 'আনন্দ পঠন গ্রন্থমালা' প্রকাশ, 'তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি' বাস্তবায়ন, একাডেমিতে গবেষণা, প্রকাশনা, প্রশিক্ষণ এবং একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের বিপণন, একাডেমি প্রেসের আধুনিকায়নসহ নানা ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন পাঁচ বছর। তিনি একাডেমির সভাপতিও ছিলেন।

অনুবাদ সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলা একাডেমির 'আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার' এ ভূষিত হন।

হারুন-উর রশিদের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর আসামের তিনসুকিয়া শহরে। তার পৈতৃক নিবাস ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। 

তিনি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার অন্নদা মডেল হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৫৭ সালে আইএ পাস করেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া কলেজ থেকে মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং এমএ করার পর ১৯৬৪ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ইংরেজি সাহিত্যে। ১৯৬৬ সালে ট্রাইপস পরীক্ষায় অনার্সসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯৭০ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। 

১৯৯৯-২০০০ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিরও সভাপতি ছিলেন। 

মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ ১৯৭৬ সালে মার্কিন সরকারের বৃত্তি লাভ করে হাওয়াই-এর ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারে ইংরেজি শিক্ষা ও ভাষাবিজ্ঞানে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর্স প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন। 

১৯৮৪ সালে হারুন-উর রশিদ ফ্রান্সের নঁতে আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি সার্ভিসের সাধারণ সভায় সভাপতি নির্বাচিত হন। দুই বছর তিনি এই পদে ছিলেন।