Published : 25 Jan 2026, 06:08 PM
স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর পর যশোর কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ‘আবেদনই করা হয়নি’ বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার বিকালে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, "স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি।"
সাদ্দামের পরিবারের মৌখিক ইচ্ছায় যশোর কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য।
"মানবিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে বলে যে খবরটি আসছে, তা 'সঠিক নয়' বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
"স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করে, বিভিন্ন গণমাধ্যম সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রাখবে।"
এদিকে সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন ঘটনার দিনই বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বিষয়টি তার এলাকায় না হওয়ায় যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার জন্য সাদ্দামের স্বজনদের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
"প্যারোলের জন্য আবেদন করা হয়নি বিষয়টি ঠিক নয়। তবে আবেদনটির সঠিক জায়গায় না করায় তাদের (সাদ্দামের পরিবার) যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তারা স্বাভাবিকভাবে নিয়েই চলে যান।"
চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময়কার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন সাদ্দাম। শুক্রবার বিকালে বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে তার স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের সন্তান ও তার স্ত্রীর লাশ নেওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তাদের শেষবারের মত ছুঁয়ে দেখেন সাদ্দাম। এরপর আবার তাকে কারাগারের পাঠানো হয় বলে জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান।
এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি চিঠি রোববার সামনে এনেছে কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল। সেখানে বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর কারাবন্দি সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ‘আবেদন করা হয়নি’।
কারা অধিদপ্তর বলছে, সাদ্দামকে কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখানোর বিষয়টি নিয়ে ‘অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’; এ কারণে ‘সবার অবগতির জন্য’ এই ব্যাখ্যা তারা দিচ্ছে।
"কারা কর্তৃপক্ষ প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করে না। এটা সম্পূর্ণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারাধীন। কারা কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র এটাকে ইমপ্লিমেন্ট বা বাস্তবায়ন করে।"
সাদ্দামকে কারাফটকে স্ত্রী সন্তানের লাশ দেখানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
কারাফটকে শেষবার স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন ছাত্রলীগের সাদ্দাম