‘এই চলে এসেছি’ বলে আর ফেরেনি কাব্য

মা নুরুন নাহার জানান, রাত ১২টার দিকে চাচার কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নেয়। এরপরই রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িতে করে রওনা দেয় কাব্য।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 01:59 PM
Updated : 1 August 2022, 01:59 PM

সৌদি আরব থেকে বাবার পাঠানো খেঁজুর আর কাপড়সহ বিভিন্ন ‘উপহার’ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীতে ১৭ বছরের এক তরুণ নিখোঁজ হয়েছেন।

শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রোববার রাতে খিলগাঁওয়ের বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়ে আর ফেরেননি ক্যামব্রয়িান কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান কাব্য।

কাব্যর মা নুরুন নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, স্বামী সৈয়দ মাহমুদুল হাসান মান্না দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। দুই বছর পরপর দেশে আসেন। তাদের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। কাব্য তাদের মধ্যে ছোট।

“এবার কাব্যর এক চাচা হজে গিয়েছিলেন। তার মাধ্যমে আমাদের জন্য খেঁজুর, কাপড় চোপড়সহ অন্যান্য জিনিস পাঠিয়েছিলেন। সেসব আনতে সন্ধ্যা ৭টায় বিমানবন্দরে যায় কাব্য।”

তিনি জানান, রাত ১২টার দিকে তার চাচার কাছ থেকে লাগেজ বুঝে নেয়। এর পরই রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িতে করে রওনা দেয়। ফোনে বাসার কাছে চলে এসেছে বলেও জানায় কাব্য।

রাত পৌনে দুইটার দিকে মালিবাগ রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় জানিয়ে মা নুরুন নাহার বলেন, “সে আমাকে বলে, এই চলে এসেছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিবব মা।”

কিন্তু ফিরতে দেরি হওয়ায় ফোনে চেষ্টা করেও আর পাওয়া যায়নি জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “ফোন বাজলেও আর ধরেনি। সারা রাত তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।”

কাব্যর মা জানান, তারা প্রথমে রামপুরা থানায় যান সেখান থেকে তাদের খিলগাঁও থানায় পাঠানো হয়। তবে মুক্তিপণ চেয়ে সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোনো ফোন তার পরিবারের কোনো সদস্যের কাছে আসেনি।

“সারারাত- সারাদিন গেল থানায় থানায় ঘুরলাম ছেলের কোনো সন্ধান পুলিশ জানাতে পারছে না, কী করব এখন আমার একমাত্র ছেলে।”

খিলগাঁও থানার ওসি ফারুকুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তারা ঘটনা জানার পর থেকে এই কিশোরের সন্ধানে বিরামহীনভাবে মাঠে কাজ করছেন।

“আমরা কিশোরের মোবাইল নেটওয়ার্কের সর্বশেষ অবস্থান শ্যামপুর, কদমতলী, জুরাইন এলাকার লোকেশন পাচ্ছি। আমাদের গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে। সুস্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে কাব্যর ফোনের সর্বশেষ অবস্থান চিহ্নিত করা করা গেছে বলে জানান ওসি।

পুলিশ জানায়, যে ফোন নম্বর দিয়ে কাব্য রাইড শেয়ারের কার নিয়েছিলেন তার সূত্র ধরে চালকের বিষয়ে প্রাথমিক একটি তথ্য পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি ফারুকুল আলম বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি, কাজ করছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক