১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘনা আলমের প্রতিবেদন পিছিয়ে ১১ নভেম্বর, পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর

পাসপোর্ট, ম্যাকবুক, মোবাইল ও ল্যাপটপ ফেরত চেয়ে গেল ২৯ জুলাই আদালতে আবেদন করেন তিনি।

মেঘনা আলমের প্রতিবেদন পিছিয়ে ১১ নভেম্বর, পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর
আদালতে মেঘনা আলম। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Oct 2025, 12:30 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

ঢাকার ধানমণ্ডি থানার প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় আলামত হিসেবে জব্দ করা মডেল মেঘনা আলমের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে।

মঙ্গলবার ধার্য দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান ফের ১১ নভেম্বর দিন রেখেছেন।

একইসঙ্গে তার পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন নামমঞ্জুর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার।

মডেল মেঘনা আলম তার জব্দ হওয়া পাসপোর্ট, ম্যাকবুক, মোবাইল ও ল্যাপটপ ফেরত চেয়ে গেল ২৯ জুলাই আদালতে আবেদন করেন। 

সেদিন তার ডিভাইসে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার ধার্য তারিখে এদিন আদালতে হাজিরা দেন মেঘনা আলম। তাকে ‘কোরআন’ হাতে দেখা গেছে। 

মেঘনার আইনজীবী মহসিন রেজা পলাশ তার পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, “মেঘনা আলম একজন লিডারশিপ ট্রেইনার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। তার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার প্রার্থনা করছি।”

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন অর রশিদ বলেন, “এটা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর মামলা। বর্তমানে মামলাটি তদন্তধীন। এছাড়া তার মোবাইল ও ল্যাপটপে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো উপাদান আছে কিনা সে বিষয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট দাখিলের বিষয়ে আদালতের আদেশ আছে। 

“ল্যাপটপ, মোবাইল ব্যবহার করে কোন কোন ব্যবসায়ী, কূটনীতিককে ব্ল্যাকমেইল করতেন, তা জানা প্রয়োজন। পাসপোর্ট ফেরত পেলে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাবেন। তদন্তের স্বার্থে এই আবেদন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”

পরে আদালত পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর করে। একইসঙ্গে ফরেনসিক রিপোর্ট দাখিলের নতুন দিন রেখে আদেশ দেয়।

মডেল ও মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর মিস আর্থ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটকের আগে তিনি ফেইসবুক লাইভে এসে বাসার ‘দরজা ভেঙে পুলিশ পরিচয়ধারীরা’ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন। তাকে আটক করার পরপরই লাইভটি বন্ধ হয়ে যায়।

পরদিন ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মেঘনাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেন বিচারক।

মডেল মেঘনাকে আটকের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ১২ এপ্রিল ডিএমপির ডিবি প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে মডেল মেঘনা আলমের আটকাদেশকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং তাকে মুক্তির কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

তাকে যে প্রক্রিয়ায় বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে তা অসাংবিধানিক ও মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থি কেন নয়–তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ধানমন্ডি থানায় ‘হানি ট্র্যাপিংয়ের’ মামলা দায়ের করা হয় মেঘনা আলমের বিরুদ্ধে। সানজানা ইন্টারন্যাশনাল নামের এক জনশক্তি রপ্তানিকারক কোম্পানির মালিক দেওয়ান সমিরকেও সেখানে আসামি করা হয়।

গেল ১৭ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজির করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরে ২৮ এপ্রিল আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার ৩০ দিনের আটকাদেশ বাতিল হয়। পরদিন ২৯ এপ্রিল তিনি কারামুক্ত হন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেঘনা আলম ও দেওয়ার সমিরসহ অন্যান্য আসামি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক/প্রতিনিধি ও দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে।

অভিযোগে বলা হয়, তারা অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে কৌশলে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ পন্থায় তাদের সম্মানহানীর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছে।