১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেতৃত্বের দায় না থাকলে বিচার নিম্ন আদালতে: ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মিজানুল

“আমরা ন্যায় বিচার চাই, সকলের জন্য ন্যায় বিচার; যেমন প্রসিকিউশন চায়, আসামিরাও ন্যায় বিচার চাইবে—এটাই স্বাভাবিক,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2025, 03:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত অপরাধে নেতৃত্বের দায় না থাকলে বিচার নিম্ন আদালতে চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি মো. মিজানুল ইসলাম।  

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ঠিক হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাটিতে ছয় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মঙ্গলবার এই চার আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় সূচনা বক্তব্য দেয় প্রসিকিউশন। আগামী ৮ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখা হয়। 

পরে সাংবাদিকদের সামনে এলে কৌঁসুলি মিজানুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, কুষ্টিয়ার যে মামলাটা, সেই মামলায় চার আসামি রাজনৈতিক নেতা। এই রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে কারা? পুলিশ বা কাউকে কি এখানে আসামি করা হয়েছে?

এর জবাবে তিনি বলেন, “আমি ট্রাইবুনালে আমার ওপেনিং স্টেটমেন্টেও বলেছি, এই বিষয়টাকে খুব ক্লিয়ার করেছি যে, এইখানে আমরা শুধুমাত্র কমান্ড রেস্পন্সিবিলিটি—যারা নেতৃত্বে, দায়িত্ব যাদের; তাদেরকে আসামি করেছি। এবং যারা মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা বা কর্মচারী, পুলিশ অফিসার যারা গুলি করেছেন, যারা হত্যা করেছেন, হত্যায় সহায়তা করেছেন; তাদের বিচার ইতোমধ্যে সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে—দ্রুত বিচার আইনে হবে।” 

তাদের অনুসন্ধান চলছে, অভিযোগপত্র নিয়মমাফিক দাখিল হবে এবং বিচার হবে বলে মিজানুল জানান। 

একই অপরাধে দুই আইনে বিচার হবে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই আইনই আমাদেরকে পারমিট, পারমিশন দেওয়া আছে যে—লার্নেড চিফ প্রসিকিউটর উইল ডিসাইড কোন অংশটুকু নেতৃত্বের দায়-এর, সেই অংশটুকু এখানে বিচার করতে পারেন। বাকিটা লোয়ার কোর্টে ট্রাইয়াল হতে পারে। এটাতে কোনো বাধা নাই।”

কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম বলেন, “আমাদের লার্নেড চিফ প্রসিকিউটর একদিন আপনাদেরকে বলেছিলেন যে, আমরা যদি সবারই বিচার করি তাহলে হয়তো বিশ বছর লাগবে এবং বিশ বছরে সাক্ষ্য-প্রমাণ হয়তো, অনেক নষ্ট হয়ে যাবে। 

“আমরা ন্যায় বিচার চাই, সকলের জন্য ন্যায় বিচার। যেমন প্রসিকিউশন চায়, আসামিরাও ন্যায় বিচার চাইবে—এটাই স্বাভাবিক।”

হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ২ নভেম্বর বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৬ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-২। সেদিনই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ১৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত দিনে পুলিশের তরফে জানানো হয়, তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চার আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২৩ অক্টোবর পলাতক এসব আসামির আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

হানিফের বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে, তার একটি হচ্ছে—‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটির’ অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যথেষ্ঠ বলে ওবায়দুল কাদের দেওয়া বক্তব্যের সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোয় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ার একটি বৈঠকে ‘ছাত্র জনতাকে হত্যা করার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশ’ দেওয়া এবং ‘ষড়যন্ত্র’ করা।

তৃতীয় অভিযোগ হল, জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ‘৬ জনকে হত্যা’ করা।