“ওই দুটি গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সারাদেশের বিতরণ অঞ্চলেরই সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি বিতরণ অঞ্চল ছাড়া কমবেশি সর্বত্রই এর প্রভাব পড়বে।”
Published : 13 Dec 2024, 09:07 PM
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বিবিয়ানা ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘অধিভুক্ত এলাকায় কয়েক দিন’ গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
শুক্রবার বিতরণ সংস্থা তিতাস এক জরুরি বার্তায় বলেছে, “জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে কয়েক দিন উৎপাদন কিছুটা কম থাকবে। তাই অধিভুক্ত কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।”
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) মো. নজরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই দুটি গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সারাদেশের বিতরণ অঞ্চলেরই সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি বিতরণ অঞ্চল ছাড়া কমবেশি সর্বত্রই এর প্রভাব পড়বে।
“সে কারণে মেনটেইনেন্সের জন্য ছুটির দিনগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির মধ্যে মেরামত কাজ সম্পন্ন হবে। সেজন্য সতর্কতামূলকভাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজ নিজ এলাকায় আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রাখছে।”
গ্যাস উৎপাদনে তিনটি দেশীয় কোম্পানি ও একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের (শেভরন) অধীনে মোট ২০টি গ্যাস ক্ষেত্র সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রের ১১৬টি কূপের মধ্যে তিতাসের ২৬টি।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৫৪২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে দৈনিক ৩৬৩ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। বিবিয়ানায় ২৬টি কূপে দৈনিক ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপান সক্ষমতার বিপরীতে ৯৮৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপান হচ্ছে।
দেশের কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৯২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। আর তিতাস ও বিবিয়ানা থেকে উৎপাদন হয় দৈনিক ১৩৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক উৎপাদনের ৭০ শতাংশ গ্যাসই আসে এই দুটি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) কামরুজ্জামান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেরামত কাজ চলবে। তারপর কয়েক ঘণ্টার জন্য সামিটের এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। এটা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
“তবে এই রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাসের খুব বেশি ঘাটতি হবে না। বিবিয়ানাতে ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমবে। আর তিতাস গ্যাসফিল্ডে কমবে ১৫ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট।”