Published : 27 Jul 2026, 07:48 PM
ঢাকার কাফরুল এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে আরেক আসামি প্রথমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরে অস্বীকৃতি জানান বলে তথ্য দেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওয়াজেদ আলী খান।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রায়হান হোসাইন গ্রেপ্তার ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড এবং আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে জিহাদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে মাসুম বিল্লাহ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে নাহিদের এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আবির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জিয়ারুলকে নেওয়া হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য। তবে জিয়ারুল জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামি আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম। তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন ছিল না।
তবে এই হত্যা মামলায় একই ঘটনায় অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার চঞ্চল মোল্যার নাম এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা মামলায় গত রোববার বিকেলে মিরপুর-১৩ নম্বরের পাঁচতলা মোড় সংলগ্ন মিনা বাজারের একটি গ্যারেজ থেকে এই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বরের ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু ও ইউসুফসহ কয়েকজন কথা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগীরা ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি তার বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে।
এ সময় আসামিদের এলোপাথাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
তিনি দাবি করেন, “কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য শুটারদের ভাড়া করেছিলেন একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ। তবে বাবু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ।
মূলত স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও জমি দখল এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২৫ লাখ টাকার চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করা হয়েছিল। ভাড়াটে শুটারদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করা হয়।”
ঘটনার পর পালানোর সময় মিরপুর-১৩ এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে চঞ্চল মোল্যাকে লোকজন আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে চঞ্চল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল ও হাসানসহ কয়েকজনের নাম বলেন। তার দেওয়া তথ্যেই পরবর্তীতে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের দিনই চঞ্চলের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ।
অন্যদিকে ইউসুফ খুনের ঘটনায় তার ভাই সেদিন হত্যা মামলা করেন। অস্ত্র মামলায় শনিবার চঞ্চলের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।
মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: এক নেতাকে মেরে ফেলতে ‘সুপারি’ দিয়েছিলেন আরেক নেতা