Published : 02 Aug 2026, 12:54 PM
আন্দোলনের প্রস্তুতির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদানের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের যোগদান করতে বলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ।
এর আগে শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ অক্টোবরকে যোগদানের দিন ঠিক করার কথা জানানো হয়েছিল।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫' এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।”
যোগদানের পরদিন পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যোগদানের তারিখ এগিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ দাবি আদায়ে রোববার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে সেখানে জড়ো হয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে গত ৫ নভেম্বর রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্কুলগুলোর ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্কুলগুলোর ৪ হাজার ১৬৬টি শূন্য পদ পূরণে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
দুই ধাপের মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদ পূরণে ৬১টি জেলায় গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী।
এরপর ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসে।
এর মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার বদলে যায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘তড়িঘড়ি’ করে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১০ মে সুপারিশপ্রাপ্তদের আগের কার্যকলাপ 'পুলিশি তদন্তের' মাধ্যমে যাচাই করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে।