১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রিমান্ড শেষে কারাগারে মুক্তি ও মোজাম্মেল

গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের ছয় দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

রিমান্ড শেষে কারাগারে মুক্তি ও মোজাম্মেল
কবিরুল হক মুক্তি ও মোজাম্মেল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Oct 2025, 07:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

নড়াইল-১ আসনের সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হককে ছয় দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন।

গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ২৫ সেপ্টেম্বর একই বিচারক তাদের ছয় দিন রিমান্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আব্দুস সালাম।

হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদের এজলাসে তোলা হয়। এসময় মুক্তি ও মোজাম্মেলের পক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আদালতে হাজির হন। তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।

মুক্তির আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, “কবিরুল হক মুক্তি চার বারের নির্বাচিত এমপি। এমপি হওয়ার পর তার সম্পদ বাড়েনি বরং কমেছে। তিনি জনপ্রিয় এমপি। স্বতন্ত্রভাবেও তিনি এমপি নির্বাচিত হন৷

“নড়াইলে কোনো ছাত্রজনতার আন্দোলন হয় নাই। কোনো হত্যা হয় নাই। এলাকার কোনো হত্যা মামলায় তিনি আসামি নন। তাকে জামিন দিন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে নাকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কী পাওয়া গেছে, কিছুই যায়নি। জামিন দিলে তিনি পালিয়ে যাবেন না।”

আর মোজাম্মেল হকের পক্ষে আইনজীবী সোহেল রানা জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, “তার (কবিরুল হক মুক্তি) রাজনৈতিক ইতিহাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখবেন, তিনি সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। শটগান নিয়ে ছাত্রজনতাকে গুলি করার মত ভিডিও আমরা দেখেছি। আপনি ইউটিউবে সার্চ দেন। দেখেন তার কী সহিংস রাজনৈতিক কার্যকলাপ রয়েছে।

“১৭ বছর কী ধরনের নির্বাচন হয়েছে আপনারা দেখেছেন। আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে সে ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জামিন দিলে তারা পালিয়ে যাবেন, যা মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাবে।”

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কবিরুল হক মুক্তি ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিকেতনের একটি গাড়ির ‘শো রুম’ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ওই দিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানের ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন। তারা চলাচলরত গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে পালানোর চেষ্টাকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, জব্দ করা হয় তাদের মোবাইল ফোন। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপে রাষ্ট্রকে ‘অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করতে’ সংগঠিত হওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে পুলিশ দেখতে পেয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ঘটনায় মুক্তির বিরুদ্ধে নড়াইল ও ঢাকায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সভাপতি মোজাম্মেল হক আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান ১ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, মোজাম্মেল হক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা করেছেন।

“এ ছাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি দলীয় লোকজনের ভেতরে প্রচারের বিষয়ে তার কাছে তথ্য পাওয়া গেছে।”

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হকের ‘অর্থায়ন’ থাকার কথা বলছে পুলিশ।

মোজাম্মেল হককেও গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।