Published : 14 Apr 2026, 03:38 PM
মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত কামরুল ইসলামের সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম।
রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন- এমবি স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই ছাব্বির আহমেদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আজিজুল হক দিদার বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের প্রার্থনা করি।
“আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড দিয়েছে।”
এর আগে সোমবার মঈনের চার সহযোগী ফালান মিয়া, রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও লিটন মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
সিকেডি হাসপাতালে শুক্রবার যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল রাত দেড়টার দিকে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে যান। তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বস্ত দেন।
পরদিন যুবদল কর্মী মঈন উদ্দিন ছাড়াও অচেনা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ আবু হানিফ। মামলার পর মঈনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, মঈনকে নড়াইলের কালিয়ার দাদনতলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি মঈন ৫ লাখ টাকা চাঁদার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কে বাদীর বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে।
বাদীর স্ত্রী মাহিনুর দরজা খুলে দিলে মঈন তাকে বলেন যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নাহলে পরিবারটির ক্ষতি করবেন বলে তিনি হুমকি দেন। এ সময় বাদী বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০-৬০ জন লোক জড়ো করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল করে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালিগালাজ করে। পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বাদী শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।