Published : 29 Mar 2026, 09:34 PM
ইউরোপের পথে ভূমধ্যসাগরে ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যেতে সাগরে রাবারের নৌকা ভাসানো একদল অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্যে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গ্রিস উপকূলে সেই নৌযান থেকে শুক্রবার জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
নৌযানটির বেঁচে ফেরা অভিযাত্রীরা বলছেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দেশি-বিদেশি যে চক্রটি এই লোকগুলোকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের লিবিয়া ও গ্রিস মিশনকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
“এখানে লিবিয়ার লোকজনও জড়িত আছে। বাংলাদেশি যদি কেউ থেকে থাকে এটা আইডেন্টিফাই করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনের শাস্তি হোক বা বাংলাদেশি আইনের শাস্তি হোক, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা আমাদের মিশন থেকে যে তথ্যটা পেয়েছি, তারা গ্রিসের সাথে যোগাযোগ করেছে। বেসিক্যালি এই যারা স্মাগলিংটা করে, তারা লিবিয়ারও আছে এবং বাংলাদেশিও আছে, যেটা আমরা ধারণা করছি।
“ধারণা করছি যে, এটা একটা চক্র, যারা সবসময় এই বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরকে বিপদে ফেলে, তাদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে তারা নিয়ে যায়।”
এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসাবে বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে বেশ কিছু দেশের নাগরিকরা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু নাগরিকও ছিল। আরও বেশি দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, এর মধ্যে একজন নারী ছিলেন ও একটা শিশুও ছিল।
“তাদের বিস্তারিত পরিচয় আমরা এখনো জানি না। যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদেরকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অন্যদেরকে একটা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ মিশন।
“সেটাতে আমাদের একটু সময় লাগবে, কাজটা চলছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আমরা কতটা ভালনারেবল অবস্থায় আছি। এই যে স্মাগলাররা তাদের একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখানে হওয়া উচিত।”
ঘটনার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আরও দুর্ভাগ্যজনক, কী পরিমাণ অমানবিক এবং ক্রিমিনাল হলে… তারা হয়তো ভেবেছিল একদিন দুইদিনে তারা পার হয়ে যাবে কিন্তু লেগেছে ছয় থেকে সাত দিন।
“এবং ছয় থেকে সাত দিনের খাবার তাদের সাথে ছিল না, পানি ছিল না, কিছুই ছিল না অমানবিক অবস্থায় ছিল। ওখানে জাহাজে যারা মারা গিয়েছিল, তাদেরকে ফেলে দেওয়া হয়েছে পানিতে।”
সাগরপথে এমন যাত্রার পথ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও তদন্ত করছে এবং সরকারের সব মন্ত্রণালয় সচেষ্ট আছে।
“আমি মনে করি লং টার্ম সলিউশন হচ্ছে যে, এটা কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেটার একটা উপায় আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে। কারণ এটা হতে দেওয়া যায় না, এটা কোনোভাবেই সভ্যতার কোনো সংজ্ঞায় এটা পড়ে না।”