নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ, বংশালের ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ২৮ মার্চ প্রতিবেদন দিতে গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 11:06 AM
Updated : 31 Jan 2024, 11:06 AM

ফাঁড়িতে নির্যাতনে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাত বডি বিল্ডার ফারুক হোসেনের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগে বংশাল থানার ওসি মাইনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার হ্যাপী মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত মামলার আবেদন করেন।

বুধবার বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ২৮ মার্চ প্রতিবেদন দিতে গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বংশাল থানার এসআই ইমদাদুল হক, আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদ।

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফারুক হোসেন লালবাগের খাজা দেওয়ান সিং লেনের বাসা থেকে ব্যক্তিগত কাজে বের হন।

এর এক ঘণ্টা পর ফারুক স্ত্রীকে ফোনকরে জানান, তাকে সন্দেহজনকভাবে কায়েতটুলী ফাঁড়ির পুলিশ গ্রেপ্তার করে আটকে রেখে নির্যাতন করছে। দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে তিনি সেখানে ছুটে গিয়ে দেখেন, ফারুককে পুলিশ সদস্যরা মারধর করে আটকে রেখেছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, হ্যাপী সেখানে এসআই ইমদাদুল হক, মাসুদ রানা, বুলবুল আহমেদসহ অন্যদের পা ধরে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান। তখন ইমদাদুল হক তাকে বলেন, ফারুক অনেক বড় ক্রিমিনাল, তাদের গালিগালাজ করেছেন, এমনিতে ছাড়া যাবে না। ছাড়াতে হলে এক লাখ টাকা লাগবে। তখন হ্যাপী জানান, তার স্বামী সিটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শোয়েবের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। আগে বডি বিল্ডার ছিলেন ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ হিসেবে। তিনটি ছোট ছোট সন্তান, তার আয়েই সংসার চলে, তাকে ছেড়ে দিন।

পরে পুলিশ সদস্যরা ৫০ হাজার টাকা দাবি করা ছাড়াও তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেছেন হ্যাপী।

তিনি মামলার আরজিতে বলেছেন, রাজি না হওয়ায় আসামিরা ফারুককে ব্যাপক মারধর করেন। আসামিরা বলেন, ‘ফারুক মাদক ব্যবসায়ী। তারা কিছু করতে পারবে না। তাদের বড় স্যার জানে কি করবে’। কিছুক্ষণ পর ফারুককে মোটর সাইকেলে করে বংশাল থানার দিকে নিয়ে যায়।

হ্যাপী পরে ওসি মাইনুল হোসেনের হাত-পা ধরে কাকুতি-মিনতি করে স্বামীকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।

কিন্তু ওসি তাকে পরদিন সিএমএম আদালতে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরদিন হ্যাপী আদালতে গেলে মারধরের কথা জানান ফারুক। তার কিছু হলে আদালতে বিচার চাইতে বলেন। ফারুকের বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাজার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন হ্যাপী। বিকালে তিনি বাসায় ফিরে যান।

পরে ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তি হ্যাপীকে জানান, ফারুক মারা গেছেন।

মামলায় হ্যাপী বলেছেন, হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ দেখতে পান। ফারুকের গলায়, বুকে, পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ওসি মাইনুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আসামি অন্য পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যও জানা যায়নি।

ফারুককে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে লালবাগ বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফারুক হোসেন একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

“দুইদিন পর জেলখানায় অসুস্থ্ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

তিনি দাবি করেন, “ফারুককে পুলিশের নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ফারুক মাদকাসক্ত ছিল।”