২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদ যেন ওই হাতিরঝিলে

ব্যস্ততার মধ্যে যানজট ঠেলে বন্ধুদের সঙ্গে রাজধানীর হাতিরঝিলে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি ডেমরার কলেজছাত্র শাকিলের, তবে ঈদের দিনে তাদের একসঙ্গে পেয়ে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি।

মাসুম বিল্লাহ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2022, 06:12 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:54 AM

রোববার বিকালে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ঝিলপাড়ে বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল, সবার পরনে ছিল বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি।

জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, “এমনিতে আসতে ইচ্ছা করলেও আসা হয় না। ঈদে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা আর সব বন্ধুকে একসঙ্গে পেয়েছি। তাই সুযোগ আর হাতছাড়া করিনি।”

ঈদের দিন সকালে নামাজ আর কোরবানির ব্যস্ততা সেরে দুপুরের খাবারের পর যেন অপেক্ষা ছিল বিকালের। নগরীর বাসিন্দারা বিভিন্ন সাজে যে যার মতো বেড়িয়ে পড়েন ঘুরে বেড়াতে।

ঢাকার অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র ও পার্কগুলোর মতো গাছপালা ঘেরা হাতিরঝিলেও দেখা যায় ভিড়।

দুপুরের রোদের তীব্রতা খানিকটা কমলে লোকজনের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরগরম ছিল পুরো ঝিল পাড়; একদল যাচ্ছেন তো দলে বেঁধে ছোট বড় সব বয়সের আরেক দল আসছেন।

ঝিলের মনোরম পরিবেশে ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে আর গাছের ছায়ায় বসে গল্প আর আড্ডায় দিন কেটেছে নগরীর হাজারও মানুষের।

ঢাকার স্থায়ীদের বাসিন্দাদের পাশাপাশি যারা ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি যেতে পারেননি কিংবা মেসে বা হোস্টেলে বসবাসকারী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী কিংবা ঈদে ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা সব রকমের মানুষের দেখা মিলেছে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বেড়ানোর প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠা হাতিরঝিলে।

ঝিলের গুলশান, এফডিসি ও রামপুরা প্রান্ত থেকে নৌকা বা স্পিড বোটে চড়ে ভ্রমণের সুযোগ ছিল। তবে রামপুরা থেকে এফডিসি যাওয়ার সড়কের পুরো অংশজুড়ে বিনোদনপ্রেমীদের দেখা গেছে ঝিলের পাশে বসে গল্প আর আড্ডায় মাততে। এলোমেলো ঘুরে বেড়ানো আর ছবি বা সেলফি তোলা ব্যক্তিরাও নজর কেড়েছেন।

হাতিরঝিল পার্কের ইট-পাথরে বানানো বৃহৎ হাতিতে শিশুদের বসিয়ে ছবি তুলেছেন অভিভাবকরা। মানুষের সমাগম যে বাড়বে তার জন্য আগাম প্রস্তুতিই ছিল ঝিলপাড়ের ফুচকা-চটপটির দোকানগুলোর।

স্বামী-স্ত্রী দুজনে চাকরি করার কারণে মেয়েকে বাইরে ঘোরার সুযোগ হয় না বাড্ডার নাদিয়ার। ঈদের দিন মেয়েকে নিয়ে তাই হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছিলেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাচ্চাকে বাসায় হয়ত সময় দিই, কিন্তু বাইরে ঘোরাঘুরির সময় সেভাবে করতে পারি না। এ কারণে আজকে এখানে নিয়ে আসলাম। ও একটু মজা করল….।”

ঢাকায় ঈদ পালন করা মানুষের বিনোদন ও ঘুরাফেরার অন্যতম লক্ষ্য এখন হাতিরঝিল। ঈদ ছাড়াও জলসিঁড়ি-উদ্যান আর রেস্টুরেন্টের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।

এবারের কোরবানির ঈদের বিকালে হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সিগুলোতে মানুষের চাপ ছিল অনেক বেশি। লম্বা সিরিয়াল আর ভিড় ঠেলে সেগুলোতে চড়ার সুযোগ পেয়েছেন বিনোদনপ্রেমীরা।

ঝিলপাড়ে রাজধানীর প্রগতি সরণির একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী সুফিয়া আক্তার প্রীতি বললো, ঝিলের নৌকায় চড়ার ইচ্ছা খুব। স্কুল আর প্রাইভেট সামলিয়ে সেভাবে ঘুরতে পারি না। এখন সব বন্ধ থেকে আসতে পারছি।”

নিম্ন আয়ের মানুষ ছাড়াও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেক মানুষকে দেখা গেছে হাতিরঝিলের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবার নিয়ে আড্ডা দিতে। সন্ধ্যার পর থেকে গাড়ি নিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে।