Published : 29 Mar 2022, 12:56 AM
ঢাকার সবুজবাগে এই হত্যাকাণ্ডের পর দুদিন পর সোমবার শিশুটির বাবা মাইনুল ইসলাম সন্তানের স্বাভাবিকতা হারানোর কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
তিনি বলেন, “আমার মেয়েটা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেছে। ও মানসিকভাবে অনেকটা শকড। যে উৎফুল্লতা, চঞ্চলতা ওর মধ্যে ছিল, সেটা এখন নাই।
“অথচ আমার তিন বছরের এই মেয়েটাই ঘটনার পর পাশের বাড়িতে গিয়ে বলেছে, ‘আমার আম্মুকে মেরে ফেলছে’। কিন্তু এখন ওর মধ্যে শিশুসূলভ কোন চঞ্চলতা নেই।”
সরকারি মেডিকেল কলেজের টেকনিশিয়ান মাইনুল কাজ করতেন ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেই কারণে সবুজবাগ এলাকার বেগুনবাড়ি মাস্টার গলির চারতলা ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।
পাঁচ মাস আগে ফরিদপুর মেডিকেলে বদল হলেও স্ত্রী তানিয়া আফরোজ, তিন বছরের মেয়ে আর ১০ মাসের ছেলেকে ঢাকায় রেখেই ফরিদপুরে কাজ করতেন মাইনুল।
গত শনিবার সন্ধ্যায় অন্যদিনের মতোই কাজে থাকার সময় ফোন পান যে তার স্ত্রী মারা গেছেন। এরপরই ঢাকার দিকে ছুটতে থাকেন তিনি। পথেই জানতে পারেন, তার স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তিনি খুন হয়েছেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বাপ্পী নামের একজন এসি (শীতাতপ যন্ত্র) টেকনিশিয়ানকে সন্দেহ করছে পুলিশ।
শনিবার রাতে তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, শোবার ঘরের খাটের উপর গৃহকর্ত্রী তানিয়া আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ। ঘরের আলমারির কাপড়চোপড় এলোমেলো। এসি খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাথরুমে। রান্নাঘরের চুলার উপর তরকারি। আর চুলা দুটির চাবি পুরোপুরি খোলা। তখনও মাইনুল ঢাকায় পৌঁছতে পারেননি।
সবুজবাগ থানার ওসি মোরাদুল ইসলাম বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পর দরজা খোলা পেয়ে তিন বছরের মেয়েটিই পাশের বাড়িতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের খবর দেয়। এরপর প্রতিবেশীরা ৯৯৯ এ ফোন করে।
স্ত্রী হারানারো পাশাপাশি দুই সন্তানকে নিয়েও এখন উদ্বেগে দিন কাটছে মাইনুলের।
তিনি বলেন, “বড় বাবুটাকে এক আত্মীয়ের কাছে রেখে আমি ওদের মায়ের লাশ নিয়ে রংপুরে আসছিলাম। আর ১০ মাসের ছোট বাবুটার শরীরেও আঘাত দেয় খুনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ (সোমবার) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে সে।”
সবুজবাগ থানার ওসি মোরাদুল সোমবার বলেন, “১০ মাসের ছোট শিশুটি তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর নিয়ে গেছে তার এক চাচা। ওই শিশুটির মুখেও স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। এতেও শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।”
১০ মাস বয়সী ছেলের মাথার আঘাত নিয়েও চিন্তিত মাইনুল।
“আমি দেখছি ওর কপালে ফুলে লাল হয়ে রয়েছে। মাথাও ফুলে রয়েছে। এত ছোট বাচ্চাটাকে কীভাবে এই আঘাত দিল, যে অমানুষটা এই আঘাত দিয়েছে, সেই জানে। আমার মেয়েটা হয়ত দেখেছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না, ওর ভাই কী করে আহত হল।”
মাইনুল বলেন, “যখন আপনাদের (সাংবাদিক) সাগর-রুনি দম্পতি খুন হল তখন ওদের বাচ্চাটাকে টিভিতে দেখাচ্ছিল। জানেন, আমি তখন দোয়া করছি যে আর কারও সঙ্গে এমন না হয়। কিন্তু কী হল দেখেন। এখন আমার দুধের বাচ্চারা যেন তাদের মায়ের হত্যার বিচার পায়, তাদের (বাচ্চাদের) ওপর যে জুলুম হয়েছে তার যেন বিচার হয় এই আশাতেই এখন আছি।”
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সন্দেহ করছে, এসি মেরামতের কাজ করতে এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে খুনি। বাপ্পী নামে এক এসি টেকনিশিয়ানকে এজন্য সন্দেহ করা হচ্ছে।
সবুজবাগ থানার ওসি মোরাদুল ইসলাম সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই টেকনিশিয়ানকে শনাক্ত করা গেলেও তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।”