নেপাল-ভুটানে জলবিদ্যুতে লাভ পেতে পারে বাংলাদেশ-ভারত: প্রধানমন্ত্রী
নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা থেকে যে লাভ পাওয়া যাবে, তা ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, এটা যেমন সস্তা হবে, তেমনি এটা জ্বালানি হিসেবেও পরিবেশবান্ধব।
ভারতের সফররত পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান।
ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের আসন্ন সফর প্রস্তুতির আলোচনায় আসা শ্রিংলা সৌজন্য সাক্ষোতে গিয়েছিলেন গণভবনে।
সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছে, নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে উভয় দেশই উপকৃত হতে পারে।”
ভারতের পররাষ্ট্র সচিবও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে জোর দিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব।
শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। যেখানে গ্রিড লাইন নেই, সেখানে সরকার সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
সীমান্তে কোনো সমস্যা হলে তা দুই দেশের বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফই আলোচনা করে সমাধান করতে পারে বলে শ্রিংলা মত দেন।
প্রেস সচিব বলেন, “তিনি (শ্রিংলা) বলেছেন,বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের ছোট-বড় সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে, আমরা চাই এ সমস্যার সমাধান হোক। প্রধানমন্ত্রীও এতে সম্মত হয়েছেন।”
শ্রিংলা তথ্য প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলেন। শিলিগুড়ি-পার্বতীপুর,ঢাকা-শিলিগুড়ি এবং ঢাকা-জলপাইগুড়ি রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর উপরও জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারির ধকল সামলে উঠে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিবও একই কথা বলেন। তবে নতুন করে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি। ভারতে ২১ জনের মধ্যে ওমিক্রন শনাক্তের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দকে আমন্ত্রণ জানানোয় ধন্যবাদ জানিয়ে একে ‘বন্ধুত্বের বিশেষ বন্ধন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে উভয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। শেখ হাসিনাও শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদীকে।
শ্রিংলা জানান, ভারত বিশ্বজুড়ে তাদের কূটনৈতিক মিশনে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী,স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী পালন করবে। ওই সব দেশের নাগরিকদের কাছেও বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরবে।
শ্রিংলা আশা প্রকাশ করেন, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলে জাতিসংঘে ভারত ও বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি যৌথ ছবির প্রদর্শনী করবে।
আলোচনায় শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগে বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার দিনটিও স্মরণ করেন।
ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা অশোক মল্লিক এবং বাংলাদেশের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
