অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম: শিক্ষক, সংগ্রামী আর সাধকের প্রতিকৃতি

”শিক্ষকতাই আমাকে সুস্থ রেখেছে, এটাই আমাকে জীবিত রেখেছে। এবং আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একজন শিক্ষক হিসাবে, একজন গবেষক হিসাবে থাকতে চাই।”

মাসুম বিল্লাহবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2021, 05:39 PM
Updated : 1 Dec 2021, 11:40 AM

অতীতের পানে চোখ রেখে ড. রফিকুল ইসলাম যখন কথাগুলো বলছিলেন, ততদিনে তিনি পেরিয়ে এসেছেন জীবনের ৮১ বসন্ত। ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর এই আলোকবর্তিকা যখন নিভে গেল, তখনও তিনি বাঙালি জাতির শিক্ষক, জাতীয় অধ্যাপক।      

আজীবন শিক্ষার দীপ জ্বেলে যাওয়া অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নিজেকে যেভাবেই বিচার করুন না কেন, বন্ধু, সহকর্মী এবং ছাত্ররা ‘স্যারকে’ খুঁজে পান আরও অনেক পরিচয়ে। 

বাংলার দুর্ভিক্ষ, ভাষা আন্দোলন, বাঙালির স্বাধিকারের লড়াই কিংবা জাতিসত্ত্বার সংগ্রামের অগ্নিসাক্ষী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসকেই গ্রন্থিত করে গেছেন তার লেখায়।

সেই রফিকুল ইসলামই আবার নিজেকে উৎসর্গ করেছেন নজরুল সাধনায়। বিদ্রোহী কবির প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখেছেন তিনি, চেষ্টা করেছেন তার কর্মের আন্তর্জাতিকীকরণের।

৮৭ বছর বয়সে মঙ্গলবার যখন তিনি পৃথিবীর ছেড়ে চলে গেলেন, তখনও তার কাঁধে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব।

একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া এবং পরে শিক্ষকতা করা অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায় রফিকুল ইসলাম ছিলেন ‘মনে প্রাণে একজন শিক্ষক’।

আবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা তাকে দেখেন ‘কল্যাণ রাষ্ট্র ও সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাজ করা নেতৃস্থানীয় একজন হিসেবে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বর্তমান চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।

তার ভাষায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর সমস্ত প্রগতির আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ছিলেন সামনের সারিতে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন প্রাঙ্গণে ভাষার দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার প্রস্তুতির এই ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

ইতিহাসের অগ্নিসাক্ষী

১৯৩৪ সালে চাঁদপুরে জন্ম হলেও বাবার চাকরির সুবাদে রফিকুল ইসলামের শৈশবের একটি অংশ কেটেছে বিভিন্ন জেলায়। পরে ঢাকাতেই থিতু হয় তার পরিবার।

বাবা ছিলেন রেলওয়ের চিকিৎসক; বাসা ছিল রেলওয়ে কলোনিতে। দশ বছর বয়সে রফিকুল ইসলাম দেখেছেন বাংলার দুর্ভিক্ষ। ১২ বছর বয়সে তাকে হতে হয়েছে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সাক্ষী।

ঢাকার বাইরে থেকে এসে সেইন্ট গ্রেগরিস স্কুলে ভর্তি হলেও দাঙ্গার কারণে তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। অষ্টম শ্রেণির পর তাকে ভর্তি করানো হয় আরমানিটোলা স্কুলে।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সেই সময়টায় মুসলমান ছাত্রদের আরমানিটোলা স্কুলে ঢুকতে হত মাহুতটুলি দিয়ে। আর হিন্দু ছাত্রদের ফটক ছিল পেছন, আরমানিটোলার দিকে।

এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, “এই যে বিভাজন, এটা আমাদেরকে আরও অসাম্প্রদায়িক করেছে। মানুষে মানুষে কেবলমাত্র বিশ্বাসের কারণে এই যে হানাহানি এবং এই যে ঘৃণা এটা যে কত অবাস্তব, এটা ছেলেবেলায় মনে গেঁথে গেছে।

”ছেলেবেলা থেকে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠেছি। চারিদিকটায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার এই বিভীষিকা দেখে, এর বিরুদ্ধে ওই দাঙ্গার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের মধ্যে একটা ঘৃণা জন্মগ্রহণ করেছে।”

১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন রফিকুল ইসলাম। ভাষা সংগ্রামের দুর্লভ অনেক ছবি তিনি ধারণ করেন নিজের ক্যামেরায়।

ভাষার জন্য মানুষের জীবন দেওয়ার ঘটনা চাক্ষুষ করার বর্ণনা তিনি দিয়েছিলেন ২০১১ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।

তিনি বলেছিলেন, “ভাষার দাবির জন্য গুলি চলতে পারে, এটা আমাদের ধারণার অতীত ছিল।”

রফিকুল ইসলাম শুধু ভাষা আন্দোলনে অংশ নেননি, বাঙালির সেই সংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন তার গবেষণা গ্রন্থে।

’অমর একুশে ও শহীদ মিনার’, ’বীরের এ রক্তস্রোত মাতার এ অশ্রুধারা’, ‘শহীদ মিনার’, ’বাংলা ভাষা আন্দোলন’, ’বাংলাদেশের সাহিত্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ’ ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা তার বইয়ের মধ্যে কয়েকটি।

১৯৬৭ সালে পাকিস্তানের বেতার ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী শুরু করেছিল, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনার সূচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করেন তার শিক্ষক ও জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে পাশে নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় একাত্তরের জুলাই মাসে রফিকুল ইসলামসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৎপরতায় এবং মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির হস্তক্ষেপে তাদেরকে সামরিক বন্দিশালা থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সেই সময়ের বর্ণনা দিয়ে ২০১৫ সালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “এভাবে আমরা আমাদের সহকর্মীদের তৎপরতায় ক্যান্টনমেন্টের বন্দিজীবন থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিজীবনে এলাম। সেখানেও মুক্তিযোদ্ধা বোঝাই, কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছিল, আমরা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এলাম।”

স্বাধীনতার পর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে আসা এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে নজরুল জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের ’নেপথ্যের কারিগর’ ছিলেন তিনি।

২০২০ সাল থেকে শুরু হল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর উদযাপন। সেই উদযাপনের জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে তিনি ছিলেন আমৃত্যু।

ইতিহাসের কালপর্বে তার তার বহুমুখী ভূমিকার কথা স্মরণ করে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, “তিনি অনেকগুলো প্রথম কিছুর সাক্ষী, যেগুলো তিনি ক্যামেরায় বন্দি করেছেন।

”আমরা আদি ছবি পেশাদার ক্যামেরাম্যানদের কাছে পাই, কিন্তু অ্যাকাডেমিক কারও ক্যামেরায় যদি পাই, সেটা তিনিই তুলে ধরেছেন।”

’জন্মগতভাবে’ শিক্ষক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা শেষে ১৯৫৭ সালে সেই বিভাগেই শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম। এ বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক তিনি।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য রফিকুল ইসলাম ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসেরও উপাচার্য ছিলেন। ২০১৮ সালে সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক করে নেয়।

২০১৫ সালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, আমি জন্মগতভাবে শিক্ষক। একজন শিক্ষকের জীবনে দুটি কর্ম। একটি হচ্ছে গবেষণা, আরেকটি হচ্ছে শিক্ষকতা। আমার জীবনে ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমি আমার গবেষণা জীবন ও শিক্ষকতা জীবন চালিয়ে যাচ্ছি।”

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম স্বাধীনতা ও একুশে পদক পেয়েছিলেন আগেই। মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদানের জন্য চলতি বছর তাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকে ভূষিত করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে নিজের শিক্ষককে নিজ হাতে পুরস্কার তুলে দিতে না পারার মনোবেদনার কথা পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, “স্যার, আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি করোনাভাইরাসের কারণে আসলে... প্রধানমন্ত্রী হলে সব স্বাধীনতা থাকে না। অনেকটা বন্দিজীবন যাপন করতে হয়। সেই রকমই আছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বাংলার ছাত্রী শেখ হাসিনা। প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় সেই অনুরাগও প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেছেন, “তার মৃত্যুতে আমি আমার শিক্ষক, গুরুজন ও অভিভাবককে হারালাম। বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমার প্রিয় শিক্ষকের উৎসাহ ও প্রেরণা আমাকে সাহস জুগিয়েছে এবং এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।”

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

আমৃত্যু নজরুল সাধক

রফিকুল ইসলামই প্রথম গবেষক, যিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য কর্মের ওপর পিএইচডি করেছেন। বিদ্রোহী কবির প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী তার হাত দিয়েই এসেছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নূরুল হুদা বলেন, “নজরুলের গবেষণা করে বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি তিনি নিলেন। তারপর নজরুল চর্চাকে সারা বাংলাদেশে এবং বাংলাভাষা ছাড়াও পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিলেন।

”নজরুল যে শুধু জাতীয় কবি নন, নজরুলের ভেতরে যে আন্তর্জাতিকতা আছে এবং সেই আন্তর্জাতিকতা যে মানবসাম্যের, মানব সংহতির জন্য- এই কথা তিনি বলে গেছেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের খ্যাতমানা অধ্যাপক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের অনুপ্রেরণায় নজরুলের উপর গবেষণা শুরু করার কথা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করার পরের বছর নজরুলের ‍ওপর গবেষণার কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৫৯ সালে ভাষাতত্ত্বে পড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট বৃত্তি পান। একইসঙ্গে মনোনয়ন পান বিবিসি বাংলা বিভাগে যোগ দেওয়ার।

’হাই স্যার’-এর উৎসাহে বিবিসিতে চাকরি না নিয়ে শিক্ষা-গবেষণায় থেকে গেলেন তরুণ শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সিদ্ধান্ত নিলেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাবেন।

তবে ফিরে এসে নজরুলের উপর পিএইচডি করার শর্তে বিভাগ থেকে রফিকুল ইসলামকে ছাড়পত্র দেন অধ্যাপক হাই।

সে সময়ের ঘটনার বর্ণনা করে রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, “হাই স্যার বললেন, তুমি অ্যাকাডেমিক দিকের লোক, তুমি ফুলব্রাইটে যাও। ওখান থেকে ভাষাতত্ত্বে মাস্টার্স পড়ে এসে তোমাকে পিএইচডি করতে হবে নজরুলের উপর।”

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের পড়তে যান ১৯৫৯ সালে। কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে পরের বছর ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর করেন। শিক্ষকের কথামত ফিরে এসে নজরুলের ওপরই পিএইচডি করেন।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কবি নূরুল হুদার দৃষ্টিতে, নজরুলকে নিয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সেই সাধনা আমৃত্যু ছিল।

“আজকে যে আমরা বলি, নজরুল সারা পৃথিবীর কবি, ভয়েস অব দ্য ওয়ার্ল্ড, ভয়েস অব হিউম্যান ওয়াননেস অ্যান্ড ফ্রিডম, এটা বাইরের গবেষকরাও বলছেন, মানবিক একতা এবং মানবিক স্বাধীনতার কবি, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম প্রথম এই যুক্তি দিয়েছিলেন। এবং তিনি আজীবন, এখন পর্যন্ত নজরুল সাধক।”

‘নজরুল-নির্দেশিকা’ ’নজরুল জীবনী’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম: জীবন ও কবিতা’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম: জীবন ও সাহিত্য’, ’কাজী নজরুল ইসলাম: জীবন ও সৃষ্টি’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম: জীবন ও সৃজন’ রয়েছে রফিকুল ইসলামের গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে।

তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ’নজরুল রচনাবলি’ এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের ’নজরুল সমগ্র’ গ্রন্থাবলির সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, “নজরুল সম্পর্কে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। নজরুল সাহিত্যের সবকিছুতেই তিনি বিশেষজ্ঞ।

”তারপর উনি একজন ভাষাবিজ্ঞানী। ভাষাতত্ত্বের ওপর উনার বই আছে। ভাষাতত্ত্ব পড়িয়েছেন দীর্ঘকাল।”

’ভাষাতত্ত্ব’, An Introduction to Colloquial Bengali’, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘বাংলা ব্যাকরণ সমীক্ষা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে তার লেখা বইয়ের মধ্যে।

এছাড়া আবুল মনসুর আহমদ রচনাবলী, সম্মুখ সমরে বাঙালী, হাজার বছরের বাংলা সাহিত্য এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ইংরেজি ’Geetanjali’ রয়েছে তার স্মারকগ্রন্থের মধ্যে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক