রিকশা গুঁড়িয়ে দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল এক আইনজীবীর কিশোর ছেলে: পুলিশ
যে কিশোর ঢাকার সড়কে প্রাইভেটকার নিয়ে নেমে একটি রিকশাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তিনি একজন আইনজীবীর ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ওই ঘটনার পর এই কিশোর প্রথম পালিয়ে গিয়েছিলেন মেহেরপুরে তার দাদার বাড়িতে, পরে আত্মগোপন করেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তার খালার বাড়িতে।
কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশের সহায়তায় আলমডাঙ্গা থেকে রোববার সকালে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
শুক্রবার বেইলি রোডে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশা গুঁড়িয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিও দেখার পর গাড়িচালককে শনাক্ত করতে উদ্যোগী হয় পুলিশ। শনিবার মধ্যরাতে হাতিরঝিল এলাকা থেকে প্রাইভেটকারটিকে আটক করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় চালক ওই কিশোরকে।
“সেখানে গাড়ি গ্যারেজে রেখে পরের দিন সকালে মাকে নিয়ে বাসে করে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় তার দাদার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে আবার আলমডাঙ্গায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে।”
তিনি বলেন, “২০০৬ সালে তার জন্ম। সে অনুযায়ী তার বয়স ১৫ বছর। এই বয়সে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কথা নয়। তাছাড়া গাড়িটি তাদের নয়। ওয়ারি এলাকার এক ব্যাক্তির নামে।”
ওই কিশোরের বাবা একজন আইনজীবী বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালো একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে পেছন থেকে রাস্তায় চলন্ত রিকশাটিকে ধাক্কা দিলে আরোহীর কোলের শিশু ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।
বিপ্লব সরকার জানান, ওই রিকশায় শাহজালাল ব্যাংকের এক কর্মকর্তা তার ৫-৬ মাসের শিশুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়ির ধাক্কায় রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে ওই ব্যক্তির হাত ভেঙে যায়। শিশুটির পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়। এছাড়া রিকশাচালকও গুরুতর আহত হয়।
শিশুটির অবস্থা ‘বেশ জটিল’ বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জব্দ করা প্রাইভেটকারসহ ওই কিশোরকে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
