বঙ্গবন্ধুর ছবিতে মুছে যাচ্ছে মঈন হোসেন রাজুর দেয়ালচিত্র
সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল সংগঠিত করতে গিয়ে গুলিতে নিহত মঈন হোসেন রাজুর স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আঁকা দেয়ালচিত্রটি মুছে দিচ্ছে সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি আঁকা হবে বলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী জানিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ওই দেয়ালচিত্রটি মুছে ফেলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন; বুধবার সন্ধ্যায় দেয়ালচিত্রটি মোছার খবর পেয়ে সেখানে গেলে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি তুহিন কান্তি দাশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পীর কথা কাটাকাটিও হয়।
তুহিন বলেছেন, “মঈন হোসেন রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। গায়ের জোরে রাজুর গ্রাফিতি মুছে ফেলছে ছাত্রলীগ।”
রাজুর দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জিলানী শুভ ও সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রাজু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক।
১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সশস্ত্র সংঘর্ষ বাঁধলে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে নেমেছিলেন রাজু। সেই মিছিলে গুলি হলে রাজু প্রাণ হারান।
রাজুর মৃত্যুর ওই ঘটনা ওই সময় আলোচনার সৃষ্টি করেছিল; যার প্রতিফলন পাওয়া যায় তাকে নিয়ে কবি শামসুর রাহমানের লেখা ‘পুরানের পাখি’ কবিতায়। টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যও তার স্মরণে।
এদিকে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গঠিত প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বাপ্পী তাদের পদক্ষেপের পেছনে জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বিশেষ তাৎপর্য্য বহন করে, এজন্য সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকবো। আমরা অন্য কারও ছবি আঁকছি না, শুধু জাতির জনকের ছবি আঁকছি।”
বিষয়টি নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে দাবি করে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, “আবার যখন তাদের প্রয়োজন হবে, তখন তারা এটা মুছে দিয়ে লিখবে বা আঁকবে।”
তিনি বলেন, “১৯৯৫ সাল থেকে আঁকলে অন্য কেউ আঁকতে পারবে না, এই ধরনের তো কোনো নিয়ম নেই। গত বছর যখন তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি মুছে দেয়াল লিখন করে, তখন তারা বলেছিল, ‘এই দেয়াল তো কারও না’। ওদের যুক্তিতেই তো আমরা আঁকতে পারি।”
ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা আসার পর কী কথা হয়েছে- এই প্রশ্নে বাপ্পী বলেন, “ওরা এসেছিল, তাদের অনুরোধ করেছিলাম, এবার আমরা আঁকি।
“পরে দলবল নিয়ে এসে তারা বলে, ১৪-১৫ বছর ধরে এঁকে আসছে। আবার বলে, এটা নাকি দখল করে নিচ্ছি। আমি বলেছি, এক বছর আঁকলেই দখল, এটা কোন কথা।”
এবিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তুহিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৯৯২ সালে রাজু সন্ত্রাসীদের গুলিতে ক্যাম্পাসে নিহত হলে ১৯৯৫ সাল থেকে এই গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। এখানে ছাত্রলীগ ৭ মার্চের ভাষণের ছবি আঁকবে।
“আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করেছি, এই দেয়াল বাদে ক্যাম্পাসের অন্য কোথায় করলে সেটা ভালো দেখায়। কারণ বঙ্গবন্ধুর সাথে তো রাজুর তুলনা হয় না, এটা করলে তো বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হবে।”
“তাদের সাথে দফায় দফায় কথা হয়েছে, কিন্তু তারা করবেই, অনেকটা গায়ে জোরে।”
এদিকে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “রাজু সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। আজ তার প্রতিকৃতি ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের শিকার। এই ঘটনার মাধ্যমে ছাত্রলীগ দখলদারিত্বের ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে চলেছে।”
