Published : 17 Jun 2026, 06:25 PM
সাবেক অর্ন্তবর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বাকি শুনানি ১৪ জুলাই নির্ধারণ করেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে মামলাটির আংশিক অভিযোগ গঠন শুনানি হয়৷
এর আগে মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি উপলক্ষে কারাগারে থাকা ৩৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অপর ৬ আসামি আদালতে হাজিরা দেন।
আদালতে মামলার অন্যতম আসামি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি করেন মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন আইনজীবী। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করেন। সেখানে তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই, সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত নেই।
আদালত সময় আবেদনের উপর আদেশ না দিয়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “এর আগে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছি। কাজ শুরু করতে হবে। একটা কাজ নিয়ে বসে থাকব? আপনারা শুনানি করতে থাকেন।”
পরে কয়েকজন আসামির অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি হয়।
গত ২১ জানুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২৪৬ জন পলাতক রয়েছেন।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম ‘জয় বাংলা ব্রিগেড' প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ বরিশাল বিভাগের কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, মাহবুবুর রহমান মধু, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।
গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হক। তদন্ত শেষে সেই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।
এরপর ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। গত ১৪ অক্টোবর পলাতকদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের জুম মিটিংয়ে অংশ নেন দলটির কয়েকশ’ নেতাকর্মী। এ সময় শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সামনে ‘দেশবিরোধী’ বক্তব্য দেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘উৎখাতের’ নির্দেশ দেন তিনি।