১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হামে মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত বিষয়ে হাই কোর্টের রুল

শিশুদের অন্য যেসব রোগ হয়, সেসব প্রতিরোধে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

হামে মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত বিষয়ে হাই কোর্টের রুল
হামে আক্রান্ত এক শিশুর শ্বাসকষ্ট থাকায় দেওয়া হচ্ছে নেবুলাইজার। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 May 2026, 10:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

দেশে হামে মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে এবং হামের প্রাদুর্ভাবের তদন্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

একইসঙ্গে হামসহ শিশুদের অন্য যেসব রোগ হয়ে থাকে, সেসব রোগ প্রতিরোধে কেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।  

দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ নির্দেশনাসহ রুল জারি করে।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এম আশরাফুল ইসলাম ও হুমায়ন কবির পল্লব। তারা আলাদাভাবে রিট আবেদন দুটি করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, “হাম স্পর্শকাতর বিষয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে বেশ কিছু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। আজ হাই কোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে হামসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটি চেয়ে এবং হাম প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন চেয়ে দুটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

“এই দুটি রিট আবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমি মাননীয় মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি।” 

তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম একটি রিট পিটিশন করে বলেছেন, আমাদের দেশে যে একটি আইন আছে ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’, তার ধারা ৩ অনুযায়ী কেন একটা কমিশন গঠন করা হবে না, এই মর্মে তিনি একটা রুল চেয়েছেন “ 

তিনি বলেন, “দ্বিতীয় মামলাটি হচ্ছে ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’, যেটার অনেকগুলো প্রেয়ার আনা হয়েছিল। আদালত দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রুল ইস্যু করেছেন।

“একটি হচ্ছে, এই হামের কারণে, টিকার অভাবে যে ৩৪৩ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; তাদের পরিবারকে কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না— উনি একটা নির্দিষ্ট অংকের কথা লিখেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে আদালত বলেছেন, কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, যদি প্রমাণিত হয় কারো অবহেলা কিংবা কোনো অকার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি একটি।

তিনি বলেন, “দ্বিতীয়ত হচ্ছে তিনি আমাদের দেশে আরেকটি আইন আছে, ২০১৮ সালের সংক্রামক ব্যাধি আইন, সেই আইন।

“ওনারা একটা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলেছি যে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে আদালতকে আমাদের রিপোর্ট দিতে কোন বাধা নেই এবং আমরা সেটা দেব। এবং আমি নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেটা বলেছি। যে এ পর্যন্ত সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন আদালত চেয়েছেন।”

এ প্রসঙ্গে রিটকারী আইনজীবীদের একজন হুমায়ন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুবার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল। অর্থাৎ হাম-রুবেলা বাংলাদেশ থেকে নিরাময় হয়ে গেছে।

“কিন্তু আনফরচুনেটলি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যেই প্রকিউরিং মেথড ছিল, সেটা পরিবর্তন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি ওপেন টেন্ডার মেথডে এই টিকা কেনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সেটি কিনতে পারেনি এবং ফলশ্রুতিতে যেটা হয়েছে, আমরা আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে হামের এবং রুবেলার টিকা দিতে পারিনি।”