Published : 20 Apr 2026, 07:49 PM
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারিভাবে গাড়ি ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে প্রচলিত নিয়মে সেবার মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেশ-বিদেশের সফরের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দেশে বা বিদেশে কোনো সফর সরকারি না ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে বাহন ও আবাসনের ব্যবস্থার ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে ব্যক্তিগত সফরে এসব সুবিধা গ্রহণ করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিজেকেই পরিশোধ করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সার্কিট হাউজ বা সরকারি রেস্ট হাউজ ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র মন্ত্রীদের অবস্থানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে।
তাদের সফরকালে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট জারি করা আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে সেটিও যথাসময়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী চাইলে তাদের একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবরা সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও প্রত্যাবর্তনের সময় মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে মন্ত্রীদের অভিপ্রায় অনুযায়ী ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনের সময় একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।
জেলা সদরে যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রীদের আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক অথবা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।
তবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ইচ্ছা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসক অথবা পুলিশ সুপার তার সফরসূচি বাতিল করবেন।
উপজেলা সদর অথবা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে মন্ত্রীদের সফরকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও যশোর জেলার প্রশাসকের বিমানবন্দর বা রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। যশোর ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
বিভাগীয় কমিশনার সদরদপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রীর আগমনের পর তিনি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।
মন্ত্রীদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেল ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার পরপরই রেলওয়ে পুলিশ সুপারকে তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সকল পুলিশ স্টেশন ফাঁড়িকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে স্টেশনে মন্ত্রী ট্রেন থেকে নামবনে এবং ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন অথবা কোনো জংশনে যে স্থানে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন।
ট্রেনে চট্টগ্রামে যাওয়া ও আসার সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপারকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।