Published : 17 Jul 2024, 07:02 PM
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলন চলার মধ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় সংঘর্ষে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ আলীর জানাজায় এই হত্যার বিচারের দাবি করেছেন তার ভাই নুরুন্নবী।
তারা কৃষক পরিবারের সন্তান জানিয়ে নুরুন্নবী বলেছেন, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েও থেমে যেতে বাধ্য হন। এখন গোটা পরিবারটিই ভবিষ্যৎ নিয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তায়।
বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই জানাজায় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা অংশ নেন। তারা সবুজের প্রাণহানির জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের দায়ী করেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে সোমবার হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পরের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় হয় সংঘাত সহিংসতা।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয় তিন জন, যাদের মধ্যে একজন দোকান কর্মচারী, একজন ছাত্রদল নেতা এবং অপরজন ছাত্র।
ঢাকায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় নিহত দুই জনের একজন ফুটপাতের দোকানি ও অপরজন ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ আলী।
বুধবার জোহরের নামাজের পর সবুজ আলীর মরদেহ আনা হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।
জানাজায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা অংশ নেন।
‘বিচার চাই’
জানাজায় বক্তব্য রাখেন সবুজ আলীর বড় ভাই নুরুন্নবী।
কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “ভাইকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম সে স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। …আমার ভাইয়ের হত্যার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার চাই।”
ছোটভাইকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল জানিয়ে নুরুন্নবী বলেন, “আমাদের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ ছিল, তারপরও ভাইকে চালিয়ে নিয়ে গেছি। আমি নিজে লেখা পড়া করি নাই কিন্তু ছোট ভাইয়ের হাল ধরছিলাম।
"আমার বাবা একজন কৃষক। ৫৮ বছর বয়সে এখনও মানুষের কৃষি কাজ করে, আমার মা বাড়িতে কাজ করে। আমি বিয়ে করেছি, একটা বাচ্চা আছে। সবুজ কে মাঝে মধ্যে কিছু (টাকা) দিতাম, এভাবেই চালাইতাম।”
ডিগ্রিতে এক বছর পড়ার পর সবুজের কারণে আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে নুরুন্নবী বলেন, “সবুজ যখন এইচএসসি পরীক্ষা দেয়, তখন আমার কলেজে ৫/৬ হাজার টাকা লাগছে, সে জন্য আমি পড়াশোনা বাদ দিয়ে দেই।”