Published : 26 Nov 2025, 05:44 PM
একটি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনে ‘মানহানিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপিকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তার এক আত্মীয়।
খুলনার বাসিন্দা মো. তারেক আহমেদ চৌধুরীর পক্ষে বুধবার এই নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল।
পপির খুলনা ও ঢাকার ঠিকানায় রেজস্টিার্ড ডাকযোগে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে এই আইনজীবী জানিয়েছেন।
গত ২১ নভেম্বর সময় টেলিভিশনে পপি মো. তারেক আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ ও ‘মানহানিকর’ অভিযোগ করেছেন বলে নোটিসে বলা হয়েছে। নোটিস দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে সময় টিভিতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং একইসঙ্গে জনসমক্ষে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তা নাহলে এই নায়িকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিসে বলা হয়।
নোটিস আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার মক্কেল ঢাকায় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে আছেন। সাদিকা পারভিন পপির প্রয়াত চাচা প্রয়াত মিয়া কবির হোসেনের জামাতা হলেন তার মক্কেল তারেক আহমেদ চৌধুরী। বৈবাহিক সূত্রে তার সঙ্গে পপির আত্মীয়তার সম্পর্ক।
নোটিসে বলা হয়, “একটি সম্পত্তি নিয়ে তাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ওই সম্পত্তিটি সাদিকা পারভিন পপির প্রয়াত চাচার মালিকানাধীন ছিল, যা একটি বৈধ হেবা দলিলের মাধ্যমে তারেক আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী এবং তার মাকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয় এবং তারা আইনগতভাবে উক্ত সম্পত্তির মালিক হন।
“আমার মক্কেল উক্ত সম্পত্তির কোনো আইনগত উত্তরাধিকারী নন এবং উক্ত সম্পত্তির ওপর তার কোনো দখল, মালিকানা বা আইনি স্বার্থ নেই; সম্পত্তিটির হস্তান্তর ও বণ্টন সম্পূর্ণরূপে উক্ত হেবা দলিল ও প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনের অধীন পরিচালিত হয়। আমার মক্কেলের সঙ্গে উক্ত সম্পত্তিগত বিরোধের কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, নোটিস গ্রহীতা গত ২১ নভেম্বর প্রচারিত সময় টিভির অনুষ্ঠানে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেছেন এবং তা প্রকাশ করেছেন।”
ইলিয়াছ আলী বলেন, “সময় টিভিতে পপি বলেছেন, আমার মক্কেল তাকে তার নিজ এলাকায় চলাফেরায় বাধা দিচ্ছেন এবং তাকে উক্ত সম্পত্তিতে তার অংশ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এমনটি করছেন।”
পপির ধারাবাহিক, বিদ্বেষমূলক ও ভিত্তিহীন জনসমক্ষে প্রদত্ত অভিযোগসমূহ তারেক আহমেদ চৌধুরীর পেশাগত অবস্থান ও নৈতিক সুনামকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।
নোটিসে বলা হয়, “আপনি অবিলম্বে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে টিভি বা অন্য কোনো জনসমক্ষে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকবেন এবং যে টিভি চ্যানেলে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছিল সেই একই সময় টিভি চ্যানেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন যে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন ছিল। এছাড়া, আপনি উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আমার মক্কেলকে আর সম্পৃক্ত করবেন না, কারণ উক্ত বিষয়ে তার কোনো আইনগত অবস্থান বা সম্পৃক্ততা নেই।
“এই আইনি নোটিস দেওয়ার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে উপরোক্ত নির্দেশসমূহ পালন করতে ব্যর্থ হলে পপির বিরুদ্ধে যথাযথ ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন; যার মধ্যে মানহানি মামলা দায়ের ও তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করাসহ সকল আইনানুগ প্রতিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”