সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘গুমের’ মামলা: জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ অগাস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২০১৫ সালে ‘গুম’-এর অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ অগাস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো একাধিক মামলার আসামি। গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ ২০২৫ সালের ২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ জমা দেন।
এতে জিয়াউল আহসান ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
ট্রাইবুনালের কৌঁসুলি শাইখ মাহদী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিষয়টি নিয়ে ০৩/২০২৬ নামে নতুন করে মিসকেস ওপেন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার আমরা এই মিসকেসে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জিয়াউল হাসানের হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলাম। ট্রাইব্যুনাল আজ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ আগস্ট তাকে আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে।”
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে কিছু লোক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। সে সময় বিএনপির গুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন সালাউদ্দিন। তার সন্ধানে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার সরকারের কাছে দাবি উত্থাপন করা হয়। স্বামীর খোঁজে সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন হাসিনা আহমদ।
ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্ধার করে। ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদভ্রান্তের মত ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি শিলংয়েই ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ অগাস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরেন।
