১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কেন্দ্রের ৪০০ গজের বাইরে মেলা বসলে আপত্তি নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

“আমি এই এক বছর ধরেই বলছি নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই, এখনো বলছি ঝুঁকি নেই।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jan 2026, 06:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের বাইরে মেলা বসলে পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন না স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলছিলেন।

বৈঠক শেষে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন রেখে বলেন, “একজন উপদেষ্টা বলেছেন কেন্দ্রের আশেপাশে মেলা বসাতে আর আপনি বলছেন যারা ভোাটার তাদের পথ যেন মসৃন থাকে। এটা সাংঘর্ষিক কী না।” 

জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "না কন্ট্রাডিক্ট করে না। ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে বলতে কিন্তু ওই…আমরা বলি নাই এত গজ এত। একটু দূরে করবে, দূরে বসবে ৪শত গজের ভেতরে বসবে না।"

এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছিলেন, “যদি সম্ভব হয় নির্বাচন কেন্দ্রের আশেপাশে মেলা করে দেও, সবাই মেলায় আসবে, মেলায় কেনাবেচা হবে। বানিজ্যও হল আবার ভোটও দিয়ে আসল।"

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে কতগুলো পুলিশের ছিল এবং থানায় জমা দেওয়া সাধারণ মানুষের লাইসেন্স করা কতগুলো অস্ত্র ছিল?

জবাবে তার কাছে এ মহূর্তে কোনো ‘তথ্য নেই’ মন্তব্য করে এর পরের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরা হবে জানিয়েছিলেন।

ওই মিটিংয়ের কথা স্মারণ করিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তার কাছে এই ‘তথ্য নেই’ জানিয়ে বলেন, "আমার কাছে নেই, দিতে পারছি না। দেখি কিভাবে তথ্যটা দেওয়া যায়।"

সংসদ নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি আছে কী না প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "এই প্রশ্ন এক বছর ধরে আসছে। আমি এই এক বছর ধরেই বলছি কোনো ঝুঁকি নেই, এখনো বলছি ঝুঁকি নেই।”

প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ র অগ্রগতি পর্যালোচনা, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম, মাদক বিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।"

নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "নিরাপত্তা আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"

নির্বাচনি প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, "প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। আর যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।"

তিনি এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

"এক্ষেত্রে তারা যেন (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়, এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না- সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"

আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা যেন গ্রহণ না করে, এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ না করে সে বিষয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সাংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন সময় অস্ত্র উদ্ধারের এক তালিকা তুলে ধরে বলেন, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।