১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজউকে সততার ‘ওয়াদা’ প্রতিমন্ত্রীর

দেশের আইন মেনে মানসম্মত ভবন নির্মাণ করতে জমি মালিক ও ডেভেলপারদের তাগিদ দিয়েছেন আহম্মদ সোহেল মনজুর।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 12:38 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় না ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের জন্য জমি মালিক ও ডেভেলপারদের তাগিদ দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। 

একইসঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা গ্রহণে যেন কোনো ভোগান্তি না হয় এবং শতভাগ সততার সঙ্গে যেন সেবা দেওয়া হয় সে বিষয়েও সংশ্লিস্টদের বলেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সততার সঙ্গে ভবন নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা ওয়াদা দিচ্ছি, রাজউক থেকেও শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রমনা এলাকার ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা ও সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী এই তাগিদ দেন। অনুমোদিত নকশা বাস্তবায়নে বিধিমালা প্রতিপালন এবং অননুমোদিত নির্মাণ ও নকশার ব্যত্যয় প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজউক এই কর্মসূচির আয়োজন করে। 

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রাজউক থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া জমি মালিক ও ডেভেলপাররা এতে অংশ নেন।

ভবন মালিকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাড়ি নির্মাণ আপনাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনারা কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেন। তাহলে কেন আপনারা অন্যায়ের আশ্রয় নেবেন? কেন অতিলোভী হয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটাবেন? বিবেকবান ব্যক্তি হিসেবে এটা কখনোই করা উচিত নয়।”

নকশা লঙ্ঘনের কারণ ও পরিণতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই রাজউক থেকে অনুমোদিত নকশা নিয়ে যাওয়ার পর মালিকরা প্রকৌশলী কিংবা পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ করেন। পরে অথরাইজড অফিসাররা পরিদর্শনে গেলে সে অনিয়ম ধরা পড়ে এবং নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে এসে মালিকরা চরম সমস্যায় পড়েন।”

ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলায় না পড়তে দেশের আইন মেনে মানসম্মত ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি।

রাজউকের সেবার মান প্রসঙ্গে আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, “বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজউকের সেবায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজউক একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও অতীতে এখানে এসে মানুষকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে পাঁচ মাস পর আমি বলতে পারি, রাজউকের চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুরো টিম আন্তরিকভাবে কাজ করছে, যাতে সেবাগ্রহীতা ও রাজউক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় তৈরি হয়।

“আমরা ওয়াদা দিচ্ছি, রাজউক থেকেও শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে।”

সেবা পেতে কোনো সমস্যা হলে অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাজউকের ওয়েবসাইট আছে, অভিযোগ কেন্দ্র আছে। চেয়ারম্যান নিজেও এসব বিষয় দেখেন। প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ে এসে আমার সঙ্গেও দেখা করতে পারবেন। তবে আমি আশা করি, রাজউকের চেয়ারম্যান ও তার টিমই যথেষ্ট। তারা অবশ্যই সুবিচার করবেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করবেন।”

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়বস্তুর ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন সংস্থার সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক।